মেইন ম্যেনু

ফ্ল্যাটে ধারালো অস্ত্র নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মারপিট, গুরুতর জখম মেয়ে, দেখুন ভিডিও…

সাতসকালে ডুকরে ওঠা মেয়েলি গলার কান্নায় বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন বরানগরের ১/২৪ ফকির ঘোষ লেনের বাসিন্দা প্রৌঢ়া কানন রায়। তড়িঘড়ি তিনি স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ওই বাড়িরই চার তলার ফ্ল্যাটে এক অসুস্থ মহিলা থাকেন। কাননদেবী মনে করেছিলেন, ওই অসুস্থ মহিলারই হয়তো কিছু হয়েছে। কিন্তু, কাননদেবীর স্বামী জানান, কান্নার আওয়াজ সামনের ফ্ল্যাট থেকে আসছে।

কাননদেবী আর অপেক্ষা করেননি সোজা গিয়ে ফ্ল্যাটের বেল বাজাতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরে বন্ধ দরজার ওপার থেকে বাচ্চা-মেয়ের গলা পান তিনি। কাননদেবী বুঝতে পারেন গলাটি সামনের ফ্ল্যাটে থাকা কিশোরী পুজার। বন্ধ দরজার ওপার থেকে পূজা কাননদেবীকে বলে, কেউ না এলে তাঁর মা রেশমীকে আর বাঁচানো যাবে না। কাননদেবীর কথায় ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দেয় পূজা। কাননদেবী এবং তাঁর স্বামী ঘরে ঢুকে দেখতে পান চারিদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে। গলায়, থাই-এ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত নিয়ে পড়ে আছেন পূজার মা রেশমি কপূর। বারান্দার দরজার কাছে খোঁজ মেলে পূজার বাবা বিকাশ কপূরের। কাননদেবীর দাবি, বিকাশের সারা শরীর রক্তাক্ত হয়েছিল। বারান্দার দরজায় কোনওমতে হেলান দিয়ে বসেছিল বিকাশ।

fgh

কাননদেবীর চিৎকারে আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও ছুটে আসেন। খবর যায় বরানগর থানায়। বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রেশমি, বিকাশ এবং পূজাকে। প্রথমে ঠাহর করা না গেলেও পরে দেখা যায় পূজার শরীরেও একাধিক গভীর ক্ষত আছে। কিন্তু, রেশমি ও পূজার শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় দু’জনকেই আর জি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আর জি কর হাসপাতালের চিকিৎসকরা রেশমিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পূজা আপাতত চিকিৎসাধীন। বিকাশ কপূরকে ভর্তি করা হয়েছে বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।

বছর ৩৫-এর রেশমি কপূর স্বামী বিকাশ এবং মেয়ে পূজাকে নিয়ে ফকির ঘোষ লেনের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। ফ্ল্যাটের কাছেই রেশমির বাপের বাড়ি। সোমবার রাতে মেয়ে ও স্বামীকে সঙ্গে করে বাপের বাড়িতেই খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন রেশমি। তবে, রাতে ফ্ল্যাটেই ফিরে আসেন সকলে। বিকাশ একটা সময় ব্যবসা করলেও এখন সেভাবে কোনও কাজ করতেন না। এই নিয়ে পারিবারিক অশান্তি লেগেই ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, গভীর রাতে বাড়ি ফিরে রেশমি ও বিকাশের মধ্যে বচসা বাঁধে। বচসার জেরে একে অপরের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। বাবা-মাকে ঠেকাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় পূজা।