মেইন ম্যেনু

বঙ্গবন্ধু পরিবারের কে হচ্ছেন পরবর্তী নেতা

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় এখন বঙ্গবন্ধু পরিবার। সর্বত্রই আলোচনা শেখ হাসিনা ছাড়া এ পরিবারটির অন্য কে আসছেন এবারের কমিটিতে। এই নিয়ে যেমন আলোচনা রয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীর মধ্যে তেমনি আলোচনা চলছে রাজনীতি সচেতন মানুষের মধ্যেও। কেউ কেউ ভাবছেন এবারে শেখ রেহানা আসছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে আবার কারও কারও ভেতরে আলোচনা তৃতীয় প্রজন্মের উত্তরাধিকারী সজীব ওয়াজেদ জয়কে ঘিরে। এমনকি শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান সিদ্দিকী ববিকে ঘিরেও আলোচনার ডালপালা ছড়াচ্ছে। এ আলোচনা আরও জমে উঠেছে শেখ রেহানা ও জয়ের কাউন্সিলর হওয়াকে কেন্দ্র করে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুই জনই নেতৃত্বে নতুন প্রজন্ম আসবেন এমন ইঙ্গিত দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি সবার দৃষ্টি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কে বা কারা নতুন কমিটিতে আসছেন এই নিয়ে আলোচনা বিভিন্ন জায়গা থেকেই শোনা যায়। আমি নিজেও বেশ কিছু নেতাকর্মীর প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। তারাও জানতে চান, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্য কেউ দলের দায়িত্বে আসছেন কিনা। আসলে আমি এর সদুত্তর দিতে পারিনি।’ নাসিম বলেন, ‘এটা পুরোপুরি আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আর তা জানা যাবে ২৩ অক্টোবর রবিবার জাতীয় সম্মেলন শুরু হওয়ার পরেই।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তো সব সময়ই বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদেরকে নেতৃত্বে দেখতে চায। সেটা হোক শেখ হাসিনা অথবা অন্য কেউ। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বাইরের কেউ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবে এটা দরের কোটি কোটি নেতাকর্মী কল্পনাই করতে পারে না।’ লেনিন বলেন, ‘আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্বে আসার সময় এখন। দলটি উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত সব সময়ই নিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি যা দলের জন্যে সমীচীন হবে তাই করবেন বলে আশা করি।’

এদিকে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও রেদওয়ান সিদ্দিকী ববিকে কাউন্সিলর করা হলে এ দুইজনকে ঘিরেও আলোচনার ডালপালা গজায়। তবে গত বুধবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় পুতুল ও ববিকে কাউন্সিলর তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় এ দুই জনকে নিয়ে আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়। অন্যদিকে, শেখ রেহানা ও সজীব ওয়াজেদ জয় এবারই প্রথম কাউন্সিলর হলেন। তারা আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের জাতীয় সম্মেলনে নেতা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এই আলোচনা আরও যে কারণে সব কিছু ছাপিয়ে উঠে তা হল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে না থাকার আগ্রহ প্রকাশ। সম্প্রতি দুটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, দলীয় পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলে তিনি খুশী হবেন। তিনি এও বলেন, ৩৫ বছর নেতৃত্ব দিয়েছি আর কত? দলীয় সভাপতির এ বক্তব্যকে এখন বিভিন্ন মহল মনে করছেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের শেখ রেহানা অথবা তৃতীয় প্রজন্মের সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে আসার ইঙ্গিত হিসেবে। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন, শেখ হাসিনার পরে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য কারও নেতৃত্বে আসতে হলে উৎকৃষ্ট সময় এখনই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বয়সজনিত কারণেই শেখ হাসিনার পক্ষে আসন্ন মেয়াদের পরে আবারও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তখন তার জায়গায় পরিবারটির মধ্য থেকে কাউকে আসতে হলে তারও তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগবে। সেদিক থেকে শেখ হাসিনা নেতৃত্বে থাকাবস্থাতেই তারা তৈরি হতে পারবেন। দরকারি দিক নির্দেশনাও পাবেন তার কাছ থেকে।মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির জন্যও নতুন কারও কিছুটা সময় প্রয়োজন।এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে এবারই নেতা হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ—এটা অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরে নিচ্ছেন অনেকেই। যদিও যাদের নামে এত আলোচনা তারা কেউই প্রকাশ্যে বা আকার ইঙ্গিতে এমন কিছুই বলেননি। এ বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি স্বয়ং দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাও।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলটিতে নেতা হওয়ার একমাত্র উপায় সম্মেলন। সম্মেলন ছাড়া অন্য কোনও উপায়ে নেতা হওয়া যায় না। ফলে হয়ত এই সম্মেলনেই কেউ আসছেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পরিবারের নেতা হওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই। এসব নানা হিসেব মেলালে শেখ রেহানা বা জয়ের রাজনীতিতে অভিষেক ঘটার সম্ভাবনা এবারের সম্মেলনে রয়েছে। তারা এসে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগবে ৩/৪ বছর। বিষয়টিও বিবেচনার বিষয় এখনই।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের কাউকে নেতা হিসাবে বরণ করে নেওয়ার জন্যে। তিনি বলেন, সারা দেশের অসংখ্য মানুষ চান বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নতুন প্রজন্মের কারও অভিষেক ঘটুক। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার। এ সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।