মেইন ম্যেনু

বলিউডের যেসব তারকারা হিলারিকে সমর্থন দিয়ে এখন চুপ!

1478711632

ডোনাল্ড ট্রাম্প কম চেষ্টা করেননি। রিপাবলিকানদের প্রচারে বলিউডের ডান্সারদের ভাড়া করে নিয়ে গিয়েছেন। সেখানে মালাইকা অরোরা খান মঞ্চে আগুন জ্বালিয়েছেন। প্রভু দেবা ওদেশকে দেখিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় ফ্লেক্সিবিলিটি কাকে বলে!

ট্রাম্প নিজেও চেষ্টা করেছিলেন হিন্দিতে কথা আর ‘আই অ্যাম আ বিগ ফ্যান অফ হিন্দু’ বলে বলিউড-ভারত-হিন্দুত্ব দিয়ে একটা ইক্যুয়েশন তৈরি করবেন, কিন্তু কোথায় কী! বলিউডে যে কোনও বিষয় নিয়েই যাদের কথা শুনতে মিডিয়া আগ বাড়িয়ে বুম তাক করে থাকে, তারাই বলছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ক্যান্ডিডেট হিলারিকেই চেয়েছিল! আমেরিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে হিলারি চমৎকার অপশন ছিল!

ট্রেন্ডটা যথারীতি শুরু করে ছিলেন সালমান খান। ৮ নভেম্বরের দিন দুয়েক আগেই টুইট করেছেন তিনি, ‘আশা করছি, আপনিই জিতবেন। ঈশ্বর আপনাকে শক্তি দিন, যাতে নিজের দেশের সংবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধকে রক্ষা করতে পারেন আপনি। অল দ্য বেস্ট’! নিজের ফেসবুক ওয়ালেও পোস্ট করেছেন এই ‘বাণী’। সালমান বরাবরই দেশীয় রাজনীতির হালহদ্দ বোঝার চেষ্টা না করে ব্যাপারটা থেকে গা-বাঁচিয়ে থেকেছেন। সময় বুঝে, রাজনীতিকে ব্যবহারও করেছেন।

আবার, ইয়াকুব মেমন ‘নিরাপরাধ’ কিংবা পাকিস্তানি অভিনেতারা সন্ত্রাসী নন— এ রকম নানা বিপরীতমুখী কথা তিনি নানা সময়ে বলেছেন, যা জনমত থেকে শতহাত দূরে থেকেছে! সেই তিনি হঠাৎ আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে এমন উৎসাহী হয়ে পড়লেন দেখে অনেকেই অবাক! এবং যথারীতি বিষয়টা নিয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ট্রোলিংও শুরু হয়ে গিয়েছে!

এ বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মার্কিন প্রেসি়ডেন্ট নির্বাচন, সন্দেহ নেই। একে সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ, তায় গ্লোবাল সামিট ইত্যাদিতে নয়া অর্থনৈতিক নীতি প্রবর্তনের ব্যাপক চাহিদা। ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তার উপর নির্ভর করবে এই দু’টো বিষয়ের কার্যকারিতা। সেসব দিয়ে বলিউডের অবশ্য কিছু যায়-আসে না। কোনও পক্ষকে সমর্থন করে কিছুটা প্রচারের আলো নিজের দিকেও ফেলা ছা়ড়া!

কিন্তু এই প্রচারলোভীরাও ট্রেন্ড কোনদিকে বোঝেন! তাই কবীর বেদী কিংবা মল্লিকা শেরাওয়াত সমর্থন করেন হিলারিকেই। মল্লিকা যেমন বারাক ওবামা’র সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের লিগের উপর তার অগাধ ভরসা! আবার কবীর বেদী স্বয়ং হিলারির সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘মহিলা প্রেসিডেন্ট মানে, আমেরিকার ইতিহাসে একটা ল্যান্ডমার্ক’।

সুতরাং হিলারি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে যতটা না গুরুত্ব পাচ্ছেন, সম্ভাব্য মহিলা প্রেসি়ডেন্ট হিসেবে তার চেয়েও বেশি। বিদ্যা বালন ‘কাহানি টু’এর প্রচারে বলেছেন, ‘আমেরিকার মতো অর্থনৈতিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশে এই মুহূর্তে একজন মহিলা প্রেসিডেন্টই প্রয়োজন। আশা করছি এবং প্রার্থনাও করছি, যাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন হিলারি।’ বিদ্যা একদম প্রথম থেকে এ বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গোটা পর্বটা ফলো করে আসছেন।

তিনি বলেছেন, ‘প্রায় রোজই টেলিভিশনে হিলারির বিতর্কসভাগুলো দেখি।’ সুতরাং বলিউডের ‘হেভিওয়েট’দের সমর্থনের তালিকায় এগিয়েই ছিল হিলারি। ট্রাম্পের অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন এবং উদ্বাস্তু-বিরোধী মনোভাবই যে তাকে জনপ্রিয়তার দৌড়ে পিছিয়ে রেখেছিল, তা বলাই বাহুল্য।

যদিও ব্যবসাপাতি-স্পনসরশিপ-গ্র্যান্টের হিসেব কষে হলিউডের কিছু তারকা ট্রাম্পকেই সমর্থন করছেন (মাইক টাইসন, আর্নল্ড শোয়ার্ৎজেনেগার)। বলিউডের তো ব্যবসা লাটে ওঠার দুশ্চিন্তা নেই! অতএব…।
গত সোমবার হিলারিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ঋষি কাপূরও। সাধারণত সব বিষয়েই মতামত দেওয়া তার স্বভাব।

এতটাই, যে ছেলে রণবীর কাপূরের ছবি ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ যখন পাক-বিতর্কে খাবি খাচ্ছে, নির্মাতারা তাকে বিশেষ অনুরোধ করেন চুপ থাকার জন্য! যাই হোক, হোয়াইট হাউসের পরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে ঋষিও চাইছিলেন হিলারিকেই। নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই তিনি টুইট করেছেন, ‘হিলারি এগিয়ে থাকুন। শান্তি, স্থিতি, ঐক্য চাইলে ওকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করুন। ডোনাল্ড ডাক (থুড়ি, ট্রাম্প) কোনও অপশনই নন’!

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এসব বলিউড তারকাদেরও বোকা বানিয়ে এখন হোয়াইট হাউজে ঢুকলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলে রাখা ভালো, এসব বলিউড তারকারা হিলারিকে সমর্থন দিলেও মার্কিন-ভারতীয় সর্বাধিক সমর্থন আদায় করে নিয়েছেন ট্রাম্প।