মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের

flood20161024095130

বঙ্গোপসাগরের উত্তরে সৃষ্ট গভীর একটি নিম্নচাপের কারণে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারে বন্যার আশঙ্কা করছে ভারতীয় আবহওয়া অধিদফতর। এ নিম্নচাপ সংক্রান্ত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ৭ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হলেও বন্যার বিষয়ে অবশ্য কিছু বলা হয়নি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে এগোনোর আগে রোববার নাগাদ তা মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে এগোতে পারে।

আরো বলা হয়েছে, আর এর ফলে মুষলধারে বৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে মিয়ানমারের বেশিরভাগ উপকূলীয় এলাকা, বাংলাদেশ এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে নিম্নচাপটি ভারত মহাসাগরের উষ্ণ পানি থেকে শক্তি সঞ্চয় করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বর্তমানে ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের মধ্যে; যা এই নিম্নচাপকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে সক্ষম।

এই নিম্নচাপটিকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে হলে ঘণ্টায় এর বাতাসের গতিবেগ হতে হবে অন্তত ১১৯ কিলোমিটার।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার দুটি মৌসুম রয়েছে। এর একটি হলো এপ্রিল-জুন, অন্যটি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের শুরুর দিক। বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় মৌসুমটাই বিপজ্জনক।

সোমবার ভোর সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ সকালে ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কিলোমিটার কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।