মেইন ম্যেনু

বাড়ি ইংল্যান্ড সমর্থন করে বাংলাদেশকে

গ্যালারিতে নজর কেড়েছে এই খুদে সমর্থকেরা

‘শুভ জন্মদিন দাদু’—প্ল্যাকার্ড লিখে নিয়ে এসেছে উইলিয়াম জেমস ভার্লি। দাদুর জন্মদিনটা অবশ্য চলে গেছে আরও চার দিন আগে। কিন্তু তাঁকে একটু ভিন্নভাবেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে চেয়েছে কিশোর উইলিয়াম। টিভিতে দেখে যেন চমকে যান, নাতিরা করেছে সেই ব্যবস্থা! দাদু দেখে চমকে গেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া গেল না। তবে উইলিয়াম আর তার ভাই ম্যাথুকে দেখে চমকে উঠতে হলো। ইংল্যান্ডে নাড়িপোঁতা হলে কী হবে, তারা যে আসলে বাংলাদেশের সমর্থক! এমনকি ম্যাথু পরেও এসেছে বাংলাদেশের জার্সি। হাতে প্ল্যাকার্ড—উই লাভ টাইগার্স!

দাদু থাকে সেই ইংল্যান্ডের নিউক্যাসলে। উইলিয়ামদের বাড়িও সেখানে। তবে বাবার চাকরির সুবাদে অনেক দিন ধরেই তারা থাকে বাংলাদেশে। তাদের বর্তমান আবাস ফরিদপুরে। সেটিও বাবার চাকরির কারণেই। ছুটির দিনে খেলা দেখতে বাবার সঙ্গে ফরিদপুর থেকে দুই ভাই চলে এসেছে ঢাকায়।

ম্যাথুর পরনে বাংলাদেশের জার্সি থাকলেও উইলিয়ামের গায়ে অবশ্য ছাই রঙা টি-শার্ট, মাথায় নিউজিল্যান্ড দলের ক্যাপ। আর ইংল্যান্ডের পতাকা তো আছেই। ঘটনা কী? সে আসলে কোন দলের সমর্থক? ‘আমি ইংল্যান্ডের খেলা দেখব কিন্তু বাংলাদেশকে সমর্থন করব’—ইংরেজিতে নয়, পরিষ্কার বাংলায় উইলিয়ামের উত্তর। শুনে শুধু বিস্মিত নয় মুগ্ধও হতে হয়।

ম্যাথুও পাশ থেকে সায় দেয়, ‘হ্যাঁ আমরা বাংলাদেশকেই সমর্থন করছি। কেন করছি জানি না!’ বলেই হেসে কুটিকুটি খুদে দুই সমর্থক। কেন তারা বাংলাদেশকে সমর্থন করছে পরক্ষণে সেটিরও খানিকটা ব্যাখ্যা দেয় ম্যাথু, ‘ইংল্যান্ড বেশি ভালো খেলে তাই বাংলাদেশকে সমর্থন করছি।’

উইলিয়াম-ম্যাথু নিউজিল্যান্ড দলেরও সমর্থক। তাদের নানা বাড়ি যে আবার নিউজিল্যান্ডে। দুজনই ফরিদপুর মুনলাইট স্কুলের শিক্ষার্থী। উইলিয়াম অষ্টম শ্রেণি ও ম্যাথু পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। তাদের সঙ্গে খেলা দেখতে এসেছে সেথ ও নিকোলাস। এই দুজনের বাড়ি আবার যুক্তরাষ্ট্রে। উইলিয়াম-ম্যাথু বহুদলীয় সমর্থক হলে সেথ-নিকোলাস নির্দ্বিধায় বাংলাদেশের সমর্থক। চারজনের সঙ্গে এসেছে বাবারাও।

চোখের প্রশান্তি বোলানো কাভার ড্রাইভে জাফর আনসারিকে তামিম ইকবালের বাউন্ডারি মারতে দেখে সোল্লাসে অভিনন্দন জানায় উইলিয়ামরা। ‘এই টেস্টে জিতবে কোন দল?’ কঠিন প্রশ্ন। কিন্তু তাদের কাছে উত্তরটা যেন খুব সহজ, ‘ইংল্যান্ড ভালো খেলবে কিন্তু জিতবে বাংলাদেশ!’

সরল হাসিতে ফেটে পড়ে নিষ্পাপ মুখগুলো। যারা আসলেই যেন বিশ্বনাগরিক। যারা আসলে এই বিশ্বের সমর্থক!