মেইন ম্যেনু

বিক্ষোভের জন্য দায়ী গণমাধ্যম : ট্রাম্প

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভের জন্য গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে উস্কানী দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল।

নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, পোর্টল্যান্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বৃহস্পতিবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ নেমে আসে। এর মধ্যে কোনো কোনো স্থানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তারও করা হয় বহু লোককেও।

এরই মধ্যে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট টুইটারে লেখেন, ‘খুবই খোলামেলা পরিবেশে এবং সাফল্যজনকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন ‘এখন কেবল পেশাজীবী বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। আর এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে গণমাধ্যম। একে তিনি অন্যায্য বলে অভিহিত করেন।

বেশিরভাগ জনমত জরিপে হিলারি ক্লিনটনের ব্যাপক বিজয়ের আভাস দেওয়া হয়েছিল। পক্ষান্তরে ট্রাম্প বার বার বলেন, তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করবেন। সেই সঙ্গে নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ করেন।

বারাক ওবামা অভিযোগ করেন, রিপাবলিকান প্রেসিডন্ট প্রার্থী নানারকম নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়ার মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রের ক্ষতি করেছেন।

এর আগে ট্রাম্প ‘ওয়াশিংটন অভিযানের’ জন্য আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানান। আর চার বছর আগে ওবামা নির্বাচনি ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।

কিন্তু ভোটের আগের দিন ৭ নভেম্বর ট্রাম্প টুইটারে লেখেন, ‘আমাদের হাস্যকর অনুকরণ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটন অভিযানে যাওয়া উচিত। আমাদের দেশ এখন পুরোপুরি দ্বিধাবিভক্ত।’

কিন্তু নির্বাচনে বিজয় লাভের পর পুরোপুরি পাল্টে যায় ট্রাম্পের সুর। ইলেক্টোরাল কলেজ ব্যবস্থাকে তিনি ভোটের আগে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু তার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই ইলেক্টোরাল করেজ ব্যবস্থা। অনেক বেশি ভোট পাওয়ার পরও ইলেক্টোরাল কলেজ ব্যবস্থার কারণে হেরে যান হিলারি। এরপরই উল্টো সুর ধরেন ট্রাম্প।

নির্বাচনি ফলাফলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ শুরুর পর পোর্টল্যান্ড সিটি, অরিগনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মরিচের গুড়া ছুড়ে মারে। চেতনানাশক গ্রেনেডেও নিক্ষেপ করা হয় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে।

শত শত লোক বিভিন্ন শহরের রাস্তায় মিছিল করে। সে সময় তারা ‘নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্টকে প্রত্যাখ্যান কর’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। আর ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দোকানের জানালা, দরজা ও গাড়ির জানালা ভাঙচুরে লিপ্ত হয়। এভাবে কয়েক ঘণ্টা চলার পর বৃহস্পতিবার বিদায় নিয়ে শুক্রবার আসে।

এরই মধ্যে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করাকে বেআইনী বলে ঘোষণা করে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগেরও ঘোষণা দেয়। কয়েকবার ঘটনাস্থল ত্যাগ নির্দেশ দেওয়ার পর পুলিশ ক্ষতিকর নয়, এমন সব অস্ত্র ব্যবহার করে, এ ছাড়া মানুষজনকে গ্রেপ্তারও করা শুরু করে।

ডেনভারে একটি ‘আন্তরাজ্য সড়ক’ অল্প সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সান ফ্রান্সিসকোর ছাত্ররা ট্রাম্প ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট নয়’ বলে স্লোগান দিতে দিতে শহরের কেন্দ্রস্থল দিয়ে যায়। এ ছাড়া ‘ট্রাম্প হটাও’ স্লোগান সম্বলিত ব্যানারও বহন করে তারা।

নিউ ইয়র্কে ছিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার সাংবাদিক। তিনি জানান, ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী সমবেত হয়। তাদের সবার হাতে ছিল ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ইত্যাদি।