মেইন ম্যেনু

বিদায় বেলায়ও ভারতকে হুঁশিয়ারি দিলেন জেনারেল রাহিল

gen_raheel_sharif_hands_over_the_baton_of_command_to_gen_qamar_javed_bajwa_32352_1480418213

নতুন সেনাপ্রধানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিদায় নেয়ার সময়েও প্রতিবেশী ভারতের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন পাকিস্তানের বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ।

তিনি বলেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে গত কয়েক মাস ধরে ‘নৃশংসতা’ চলছে। ভারতের জানা উচিত যে, আমাদের ধৈর্যকে ভুলেও দুর্বলতা মনে করলে তা হবে ভয়ংকর।

মঙ্গলবার সেনা সদর দফতর সংলগ্ন আর্মি হকি স্টেডিয়ামে নতুন পাক সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল মালাকার বেত দিয়ে তৈরি ছড়ি ‘ব্যাটন অব কমান্ড’ জেনারেল বাজওয়ার হাতে তুলে দেন। এরমধ্য দিয়ে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশকালে জেনারেল রাহিল গার্ড অব অনার প্রদান করে সম্মান জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ, তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব, জাতীয় পার্লামেন্টের স্পিকার আয়াজ সাদিক, পিপিপি নেতা আবদুল কাদির প্যাটেল, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আশফাক পারভেজ কায়ানি প্রমুখ।

দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে বিদায়ী ভাষণ দেন জেনারেল রাহিল। তিনি পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করায় তাদের ধন্যবাদ জানান।

দায়িত্ব পালনকালে সামরিক ও সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা পেয়ে অভিভূত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিদায়ী সেনাপ্রধান।

জেনারেল রাহিল বক্তৃতাকালে ভারতের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হুমকি মোকাবিলায় একটি জাতীয় অ্যাকশন প্লানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশের ভিতর থেকে হোক বা বাইরে থেকে হোক যেকোনো হুমকির বিষয়ে সেনাবাহিনী সতর্ক থাকবে। এক্ষেত্রে দেশের সব প্রতিষ্ঠানের এক সঙ্গে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিদায়ী ভাষণে কাশ্মীর সঙ্কটের সমাধানের উপর গুরুত্বারোপ করেন জেনারেল রাহিল। তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়া এবং আগ্রাসী অবস্থান পুরো অঞ্চলকে বিপন্ন করে তুলেছে।

কাশ্মীরের ব্যাপারে পাকিস্তানের ধৈর্যকে ভুল করেও দুর্বলতা মনে করলে তা ভারতের জন্য ভয়ংকর হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

কাশ্মির ইস্যুর সমাধান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি ও অগ্রগতি অসম্ভব জানিয়ে এজন্য আন্তর্জাতিক মহলকে বিশেষ মনোযোগী হতে আহ্বান জানান তিনি।

বিদায়ী ভাষণে জেনারেল রাহিল চীনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) একটি বড় ফ্যাক্টর।

সিইপিসি বন্ধের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এরইমধ্যে গাদার বন্দর থেকে প্রথম কার্গোর যাত্রা শুরু হয়েছে। এই যাত্রা আর থামানো যাবে না। কাজেই সিপিইসি বন্ধের শত্রুতা বন্ধ করে এর অংশ হওয়া উচিত।