মেইন ম্যেনু

বিয়ের আসরে গুলি চালানো এই হিন্দু সাধ্বী কে?

_92499882_ba856fbe-a2f9-4703-aa6d-14ee0ff69915

আপাদমস্তক আবৃত গেরুয়া বসনে। গায়ে দামী সোনার গহনা। হাতে কখনো পিস্তল, কখনো রাইফেল। ২৭ বছর বয়সী দেবা ঠাকুর ভারতের সবচেয়ে বিতর্কিত হিন্দু মহিলা সাধু।

কিন্তু বিয়ের আসরে গুলি চালিয়ে কয়েকজনকে হতাহত করার পর তাঁকে এখন খুঁজছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার হরিয়ানার এক বিয়ের অনুষ্ঠানে সাধ্বী দেবা ঠাকুরকে প্রথমে রিভলবার এবং পরে একটি দোনলা বন্দুক দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। এই ঘটনার ভিডিও এখন ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে।

তাঁর গুলিতে নিহত হয় কনের এক আত্মীয়। আহত হয় আরও তিনজন। এরপর থেকে পলাতক বিতর্কিত এই সাধ্বী।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে দেবা ঠাকুর নাচের আসরে গিয়ে তার পছন্দমত গান বাজাতে বলেন ডিজে’কে। এরপর তিনি নাচতে শুরু করেন। নাচের একপর্যায়ে তিনি রিভলবার আর বন্দুক দিয়ে উপরের দিকে তাক করে গুলি চালানো শুরু করেন।

খবরে বলা হচ্ছে, বিয়ের আসরে বর এবং কনে দুজনেই তাঁকে অনুরোধ করছিলেন গুলি থামানোর জন্য। কিন্তু কারও অনুরোধেই তিনি কর্ণপাত করেননি।

গুলিতে যখন কনের চাচী নিহত হলেন, এবং অপর তিনজন আহত হলেন, তারপরই কেবল তিনি গুলি থামান।
ততক্ষণে বিয়ের আসরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অতিথিরা ছুটোছুটি শুরু করেছেন।
এই হট্টগোলের মধ্যে পালিয়ে যান সাধ্বী দেবা ঠাকুর এবং তাঁর ছয় দেহরক্ষী।

এদের সাত জনের বিরুদ্ধেই খুনের মামলা হয়েছে। পুলিশ তাদের খুঁজছে।
বিতর্কিত সাধ্বী

দেবা ঠাকুর কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভা’র ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগেও তাকে নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে।

গত বছর তিনি ভারতের মুসলিম আর খ্রিষ্টানদের বন্ধ্যাকরণের প্রস্তাব দেন যাতে করে এদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একথা বলায় তখন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

তিনি বলেছিলেন, “সরকারের উচিত মুসলিম আর খ্রিষ্টানরা যাতে বেশি সন্তান নিতে না পারে, সেজন্যে আইন করা। তাদের জোর করে বন্ধ্যা করা দরকার।”

একই সঙ্গে তিনি হিন্দু মহিলাদের আরও বেশি সংখ্যায় সন্তান নেয়ারও আহ্বান জানান।

একটি ভারতীয় সংবাদপত্রে (ডিএনএ) তাকে উদ্ধৃত করে আরেক খবরে বলা হয়েছিল, দেবা ঠাকুর সব মসজিদ এবং গির্জায় হিন্দু দেব দেবীর মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হরিয়ানায় মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের মূর্তি স্থাপনেরও দাবি তোলেন।

দেবা ঠাকুরের জন্ম হরিয়ানার কার্নাল জেলার এক গ্রামে। সেখানে তার একটি আশ্রম আছে। আছে বহু অনুসারী।
স্থানীয় এক সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, দেবা ঠাকুর বিলাসবহুল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত, নিজেকে প্রচার করতে চান খুব বেশি।
সব সময় গেরুয়া পোশাক পরেন। দামী অলংকারে নিজেকে সাজিয়ে রাখেন। আর সাথে সবসময় বন্দুক রাখেন।
দেবা ঠাকুরের একটি ফেসবুক পাতাও আছে। সেটি দেখাশোনা করেন তার ভাই।
সম্পর্কিত বিষয়