মেইন ম্যেনু

বিশেষ আদালতে অস্থির ছিলেন খালেদা

khaleda20161110110609

দুই মামলায় হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার বিশেষ আদালতে উপস্থিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে এদিন আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন ছিলেন বেশ অস্থির। সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত তিনি আদালতে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার আদালতে প্রবেশের দুই মিনিট পর নির্ধারিত চেয়ারে বসেন খালেদা জিয়া। তিনি কখনো বুকে হাত বেঁধে আবার কখনো আঙুলের সঙ্গে আঙুল বেঁধে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর পর টিসু দিয়ে চোখ মুছছিলেন। এছাড়া চারদিকে তাকাচ্ছিলেন কিছুক্ষণ পর পর। কখনো কখনো তাকে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা গেছে। মাঝে মাঝে আইনজীবীদের কথা শুনে মুচকি হাসি হাসতেও দেখা গেছে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়া বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালেতে হাজির হন। বিচারক ১০টা ৫২ মিনিটে এজলাসে উপস্থিত হলে আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বিচারকের কাছে খালেদা জিয়ার বসার অনুমতি চান। এ সময় বিচারক তাকে বসতে বলেন।

পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদকে জেরা শুরু করেন আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান।

জেরার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে আইনজীবী করেন, চ্যারিটেবল ট্রাস্টের ডিটের ‘বতয়’ ঘটিয়ে অনুসন্ধান করেন এবং তদন্ত করেন। রেজ্জাক খান ব্যত্যয়কে ‘বতয়’ বলায় তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসেন খালেদা জিয়া। জবাবে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ করিনি।

দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষ করেন আইনজীবী। জেরা শেষে বিচারক বলেন, আজ আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য রয়েছে। তখন আইনজীবীরা বিচারকের কাছে দুই সপ্তাহের সময় আবেদন করেন। বিচারক বলেন, বেগম জিয়া বললে তা বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। তখন খালেদা জিয়া বলেন, দুই সপ্তাহের সময় দিলে ভালো। বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ২৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। বিচারক খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ২৪ নভেম্বর আপনাকে অবশ্যই আসতে হবে।

এ সময় বিচারক আরো বলেন, সেদিন আপনাকে তিনটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এক মামলার সাক্ষীরা আপনার বিরুদ্ধে যা সাক্ষ্য দিয়েছেন এতে আপনি দোষী না নির্দোষ। দুই আপনি মামলায় কোনো সাফাই সাক্ষী দেওয়াবেন কিনা। তিন মামলার বিষয় আপনার কোনো বক্তব্য আছে কিনা।

পরে বিচারক বলেন, আজ অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরার দিন ধার্য ছিল। সিনিয়র আইনজীবীকে চ্যারিটেবল মামলায় জেরা করে ক্লান্ত মনে হচ্ছে। তাই এ মামলার জেরার জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য রইলো। পরে খালেদা জিয়া ১২টা ৪০ মিনিটে আদালত ত্যাগ করেন।

এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, জিয়া উদ্দিন জিয়া, তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, এম হেলাল উদ্দিন, শাহজাদী কহিনুর পাপড়ি প্রমুখ।