মেইন ম্যেনু

বিশ্ব ফুটবলে সেরা ৮টি অঘটন

বরাবরই সবাইকে বলতে শোনা যায়, ‘‘খেলায় হার-জিত আছে’’৷ অথচ বড় বড় দল যখনই ছোট দলের কাছে হারে, তখনই সেটা হয়ে যায় ‘আপসেট’৷ বড় দলের জন্য সেটাই বিপর্যয়৷ বিশ্ব ফুটবলে তেমন কয়েকটি আপসেট বা অঘটন নিয়েই এই ছবিঘর৷

১৯৫০-এর বিশ্বকাপের সেই অঘটন:
সেবার ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র৷ চুনোপুঁটির কাছে ব্রিটিশ সিংহদের পরাজয়ের খবরটি প্রথমে টেলিপ্রিন্টারে যখন ইংল্যান্ডের এক সংবাদপত্রের অফিসে পৌঁছালো, এক সাংবাদিক নাকি ছাপার ভুল ভেবে ম্যাচের ফলাফল লিখেছিলেন ইংল্যান্ড ১০ যুক্তরাষ্ট্র্র ১৷ সেই ম্যাচে একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন গোলরক্ষক ফ্র্যাংক বোরঘি৷ এই খেলা নিয়ে মুভিও হয়েছে, নাম ‘দ্য গেম অফ আওয়ার লাইভস’৷

উত্তর কোরিয়ার ইটালি ‘বধ’:
এই অঘটনের সাক্ষী ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ আসর৷ ১৯৩৪ এবং ১৯৩৮-এ বিশ্বকাপ জেতা ইটালি ওই ম্যাচে পুঁচকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ড্র করলেই চলে যেতো দ্বিতীয় রাউন্ডে৷ কিন্তু প্যাক দো ইকের গোলে জয় পেয়ে যায় উত্তর কোরিয়া৷ এমন ইতিহাস গড়া গোলে জন্য সরকারের কাছ থেকে একটি গাড়ি উপহার পেয়েছিলেন প্যাক৷

ব্রাজিলের সর্বনাশ:
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ আসরটি হয়েছিল ব্রাজিলে৷ ব্রাজিল তখন দুর্দান্ত দল৷ দুর্দান্ত খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেছিল তারা৷ রিও ডি জানেরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে সেদিন উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করলেই হতো৷ কিন্তু ২ লাখ ব্রাজিলীয় দর্শকের উল্লাস মাটি করে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল৷

কোথায় আলবেনিয়া, কোথায় জার্মানি!:
১৯৬৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্ব৷ আলবেনিয়ার মুখোমুখি জার্মানি (তখন পশ্চিম জার্মানি)৷ না জিতলে মূল পর্বে খেলতে পারবে না জার্মানরা৷ সত্যিই জেতা হলো না৷ আলবেনিয়ার সঙ্গে ড্র করে মূল পর্বের আগেই ছিটকে পড়ল জার্মানি৷

জার্মানির স্বপ্নভঙ্গ:
১৯৯২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল৷ জার্মানির মুখোমুখি ডেনমার্ক৷ জার্মানরাই ছিল ফেবারিট৷ কিন্তু জার্মানদের ২-০ গোলে হারিয়ে ডেনিশরাই হয়ে গেল চ্যাম্পিয়ন৷ জার্মানির ওই দলটিই কিন্তু ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল৷

২০০২ বিশ্বকাপ সেনেগালের চমক:
সে আসরের প্রথম ম্যাচ৷ ১৯৯৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপে নবাগত সেনেগাল৷ ফ্রান্স ড্র করতে পারে এমন কথাও কেউ ভাবেননি৷ কিন্তু সেনেগালের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেল ফ্রান্স৷ ফরাসি তারকা ফুটবলার জিনেদিন জিদান অবশ্য ইনজুরির জন্য সেই ম্যাচে খেলেননি৷

আর্জেন্টিনার হার:
১৯৯০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটায় খেলেছিল আগের বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং সে আসরের নবাগত ক্যামেরুন৷ আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মারাদোনাকে আগে নিষ্ক্রিয় করার সব চেষ্টাই করেছেন সেদিন ক্যামেরুনের খেলোয়াড়াররা এবং তাতে সাফল্যও পেয়েছেন৷ মিলানে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলের হারটা হজম করতে আর্জেন্টাইনদের খুব কষ্ট হয়েছিল৷

এবং ব্রাজিলের ৭ গোল হজম:
২০১৪ বিশ্বকাপের ব্রাজিল-জার্মানি ম্যাচটিকে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞই অঘটনের তালিকায় রাখেন না৷ তাঁরা মনে করেন, ফুটবলের দুই পরাশক্তির ম্যাচের ফলাফল ৭-১ হলে সেটাকে পরাজিত দলের জন্য বিপর্যয় বলা যায়, তবে অঘটন সেটা নয়৷ তবে বিশেষজ্ঞরা যা-ই বলুন, পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের এক ম্যাচে ৭ গোল খাওয়া নিশ্চয়ই ফুটবল ইতিহাসে লিখে রাখার মতো ঘটনা৷-dw