মেইন ম্যেনু

বৃষ্টির দিন নাটকীয় জয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়ে

জয়ের জন্য দুই দলের সামনেই পরিষ্কার সমীকরণ ছিল। যে দল জিতবে তারাই ফাইনালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গী হবে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি কোনো কারণে মীমাংসা না হলেও ক্যারিবিয়ানরাই ফাইনালে পা রাখত। নানা নাটকীয়তা শেষে বৃষ্টিবিঘ্নিত দিকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে চমকে ভরা এক জয় দিয়ে ফাইনালে পা রাখলো স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। অথচ গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচেই জয়হীন ছিল দলটি।

বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বৃষ্টির কারণে ৪৯ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৮ উইকেটে ২১৮ রানের মাঝারি মানের সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে। সেটির পেছনে ছুটতে গিয়ে ২৭.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২৭ রান করার পর বৃষ্টি নামে। টানা বৃষ্টির কারণে আর খেলা মাঠে না গড়ানোয় ডাকওয়ার্থ-লুইস (ডিএল) পদ্ধতি জিম্বাবুয়েকে ৫ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। আগামী রোববার ফাইনালে মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ছয় ম্যাচ শেষে উত্তেজনা ও রোমাঞ্চই দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার আলোচিত ‘টাই’ এবং ক্যাবিরিয়ানদের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার এক রানের জয়কে ছাপিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। অবিশ্বাস্যভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিলো আফ্রিকান দলটি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা জিম্বাবুয়ে ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে গিয়েছিল। একপর্যায়ে ৭ উইকেটে ৮৯ ও ৮ উইকেটে ১২৭ রানে পরিণত হয়েছিল স্বাগতিকদের ইনিংস। সেখান থেকে নবম উইকেটে টেন্ডাই চিসোরোকে নিয়ে ৭৩ বলে ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে লড়াই করার পুঁজি এনে দেন সিকান্দার রাজা।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ১০৩ বলে ৭৬ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে সিকান্দার। তার সঙ্গী চিসোরো ৩৫ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৪২ রানের দারুণ ইনিংস উপহার দেন। ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে চিসোরো ম্যাচ-সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় করেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন অ্যাশলে নার্স ও দেবেন্দ্র বিশু। জেসন হোল্ডার নেন দুটি উইকেট।

জয়ের জন্য ২১৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই জনসন চার্লসকে (০) হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ১২ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এভিন লুইস (৯)। খুব সুবিধা করতে পারেননি শাই হোপও। ২২ বলে ১৪ রান করে দলীয় ৩৫ রানের মাথায় তিনিও দুই ওপেনারকে অসুসরণ করেন।

৩৫ রানের মধ্যেই তিন শীর্ষ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপের মুখে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন কার্লোস ব্রাফেট ও জোনাথন কার্টার। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন ৩৫ রান করেন। ৭০ রানের মাথায় ব্রাফেট এবং ৯৩ রপানের মাথায় রবম্যান পাওয়েলকে আউট করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় জিম্বাবুয়ে।

৯৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাল ধরেন হোল্ডার ও কার্টার। এই দুজন ২৮ বলে ৩১ রান করেন। দলীয় ২২.৫ ওভারের মাথায় তুমুল বৃষ্টি নামে কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবের আকাশে।

খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ডিএল-মেথডে ৫ রানে এগিয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে। হয়তো তখন বৃষ্টির জন্য প্রার্থনাই করেছিল স্বাগতিক শিবির। প্রকৃতিও সেই ডাকে সাড়া দেয়। ফলে নাটকীয় জয় দিয়ে তিন জাতি সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নেয় জিম্বাবুয়ে।