মেইন ম্যেনু

বেরোবি’র ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন

বেরোবি প্রতিনিধি: এক সহপাঠীকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ না দেয়ায় বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ে মাস্টার্স প্রথম পর্বের ফাইনাল পরীক্ষা বর্জণ করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার পরীক্ষা বর্জণ করে পরীক্ষার বাইরে রাখা সহপাঠীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

জানাযায়, চলতি বছরের ৯ মে রাত ৮ টায় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণকালে উপাচার্যের সাথে অসদাচরণের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আযম ফাইনকে সাময়িক বহিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১২ মে রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম কবীর সাক্ষরিত সাময়িক বহিস্কারের নোটিশ ফাইনকে প্রদান করা হয়। সেই নোটিশে ফাইনের অপরাধ গুরুত্বর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শৃঙ্খলার পরিপর্ন্থী উল্লেখ করে তাকে ক্লাস, পরীক্ষা ও ভর্তি সংক্রান্ত কার্য্যাবলী থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।

ঘটনার কিছুদিন পর তদন্তের জন্য ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান গোলাম রব্বানীকে আহবায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত অক্টোবর মাসে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তদন্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন গোলাম রব্বানী । তারপর থেকে বিষয়টি ঝুলন্ত আছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ফয়সাল আযম ফাইন জানান, সেদিনের ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। তবে সেখানে শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল। যে গ্রুপের সাথে উপাচার্য কথা বলেছেন আমি সেই গ্রুপে ছিলাম না। আর যে কথার কারণে এমন অভিযোগ উঠেছে আমি তা বলিনি।

তবে তদন্তের রিপোর্ট ছাড়াই ফাইনকে পরীক্ষায় বাইরে রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তার সহপাঠীরা। ফাহিমের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল হোসেন জানান, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার বাইরে রাখা হচ্ছে কেন? এখনও যার তদন্ত হয়নি তার শাস্তি কিভাবে হয়? আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের পরই কেবল পরীক্ষায় ফিরব।

পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান গোলাম রব্বানী জানান, আমি ব্যক্তিগত কারণে প্রায় একমাস আগে তদন্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। আর আজ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ছাড়াই কিসের ভিত্তিতে ফাইনকে সাময়িক বহিস্কার করা হল এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম কবীর বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্বয়ং উপাচার্য অভিযোগ করেছেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক শাস্তি স্বরুপ তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। আর তদন্ত রিপোর্ট আসলে তার ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. একেএম নুরু-উন-নবী বলেন, “ওই শিক্ষার্থীর অপরাধের কারণে তার প্রাথমিক শাস্তি স্ব্রুপ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যা এখনও বলবৎ রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার জন্য অন্য শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় না বসলে নিজেদের ক্ষতি করবে। এমনকি পরীক্ষা না দিলে সবাই অকৃতকার্য বলে গণ্য হতে পারে।”