মেইন ম্যেনু

আর্থিক অনিয়ম :

বেরোবি উপাচার্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

বেরোবি প্রতিনিধি : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম নূর-উন-নবীর বিভিন্ন অনিয়ম করে মোটা অংকের অর্থ উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। গত ২২ নভেম্বর প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়-১২ এর পরিচালক ফরিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত শিক্ষামন্ত্রনালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে এই নির্দেশ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোপন শাখার একটি প্রতিবেদনে উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম নূর-উন-নবীর দায়িত্ব গ্রহনের সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময়ে টেন্ডার বাণিজ্যসহ একাধিক অনিয়মে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার কথা উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদনের আলোকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্যের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে তিন সদস্যর একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে টেন্ডার বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ‘Orbital International Inc এর কাছ থেকে কম মূল্যের বই চড়া দামে ক্রয় করার কথা বলে অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, বই বিক্রেতা ওই প্রতিষ্ঠান একটি বইয়ের দাম ৫০ হাজার করে দেখালেও বাজারে ক্রয়কৃত প্রতিটি বইয়ের মূল্য ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজারের বেশি নয়। আর বই কেনার এই প্রক্রিয়ার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং নির্বাহী প্রকৌশলী স্বয়ং জড়িত এবং যার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে বলা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উপাচার্য নিজেই ট্রেজারারের পদের দায়িত্ব পালন করে আর্থিক অনিয়ম করে চলছে। সহজে এই অনিয়ম করা যায় এর জন্য অর্থ ও হিসাব শাখায় কোনো পরিচালকও নিয়োগ দেয়া হয়নি।

এছাড়াও উপাচার্য টিএ/ডিএ, অতিথি আপ্যায়ন, পিটি ক্যাশ সহ অন্যান্য ব্যয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর উদাহরণ সরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার কয়েকটি আপ্যায়ন বাবদ খরচেরও হিসাব দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপাচার্য ব্যক্তিগত কারণে দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকলেও ঠিকই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব থাকা থেকে আপ্যায়নসহ টিএ/ডিএ বাবদ টাকা উত্তোলন করে। এমনকি তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অন্য কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে প্রো-ভিসি, ট্রেজারারের পদসহ একাই ১০ টি পদের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

এছাড়াও গত কয়েকে বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভবন নির্মান করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি।

প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির একাধিক সূত্রের মাধ্যমে বর্তমান উপাচার্যের একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতি, সেচ্ছাচারিতার কথা উল্লেখ্য করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনে শিক্ষামন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।