মেইন ম্যেনু

বেলকনিতে শখের বাগান

ফারিন সুমাইয়া : কথায় আছে শখের তোলা হাজার টাকা। তাই তো ইটপাথরের এই ছোট্ট বাসায় থেকেও মানুষ চায় এক টুকরো বাগান করতে। আজকাল আমরা যে বাড়িগুলোতে বাস করি তাতে উঠান থাকা আকাশ-কুসুম কল্পনা মাত্র। একটা সময় ছিল যখন বাড়িজুড়ে থাকতো বিশাল উঠান। ছেলেমেয়েদের ছোটাছুটির সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিলতো হাজার ধরনের গাছের। পাতা বাহারের সমাহার, কোনোটি গোলাপের চারা আবার কোনোটি বেলিফুল, কোনোটি গন্ধরাজ। আমগাছ, জামগাছ, কাঁঠাল, কলা কী থাকতো না সেই বাগানে। সেই সময়ের বাগান হারিয়ে গেলেও এখনো আছে মানুষের মনে সেই ইচ্ছা। তাই তো এখনো বাড়ির বেলকনিতে মানুষ অল্প পরিসরে গড়ে তোলেন শখের বাগান!

বেলকনিতে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই দরকার পড়ে টবের। মাটির টব আপনার আশপাশের নার্সারিতে পেয়ে যাবেন খুব সহজে। বেলকনিতে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে পাতা বাহার। মাটি আর পর্যাপ্ত পানি হলেই আপনার গাছ খুব অল্প সময়ের মধ্যে বেড়ে উঠবে। এছাড়া আপনি ছোট ছোট টবে লাগাতে পারেন অর্কিড। শৌখিন মানুষেরা প্রায়শই তাদের বেলকনির শখের বাগানে অর্কিড রোপণ করে থাকেন। অর্কিড রোপণ করতে পুরো গাছ না হলেও চলবে। গাছের কাণ্ড হলেও আপনি লাগাতে পারবেন। টবে মাটির সঙ্গে নারিকেলের ছোবরা, ছোট কনি পাথর আর ইটের মিশ্রণের মাধ্যমে রোপণ করা হয় অর্কিড।

একটি জায়গা বেশি হলে আপনি আপনার শখের বাগানে রাখতে পারেন ড্রাম। যাতে প্রচুর মাটি দিয়ে আপনি বনসাই আম, কাঁঠাল গাছ লাগাতে পারেন। তার সঙ্গে বনসাই ছাড়াও লেবু গাছ, মরিচ গাছ লাগানো যেতে পারে। ফুলের ক্ষেত্রে গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা, গোলাপের গাছ লাগাতে পারেন আপনার শখের বাগানে। এসব গাছের মাটি একটি সময় পরপর পরিবর্তন করে দিতে হয়। সপ্তাহে কিংবা মাসে তিনবার অন্তর অন্তর নিড়ানি দিতে হয় মাটিতে। তার সঙ্গে সঙ্গে গাছের গোড়ায় দিতে হয় গোবর। এই সার গাছকে দ্রুত বেড়ে তুলতে সাহায্য করে।

গাছ আমাদের বন্ধু। এটি আমাদের যেমন অক্সিজেন দেয় তেমনি কার্বনডাইঅক্সাইড টেনে নেয়। এটি আমাদের দেয় সবুজ পরিবেশ, যা বায়ুমণ্ডলকে রাখে শান্ত। তাই একটি হলেও গাছ লাগান। এবং পরিবেশকে রাখুন সুস্থ, সুন্দর আর নির্মল।