মেইন ম্যেনু

বোর্ডের খবর নেই, পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

33dd0a7ad2019fe0e391d10a6b3e90df-5815fa7d21a95

শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ (বেফাকুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ) আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের আগেই কেন্দ্রীয় বাৎসরিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। রবিবার বোর্ডের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদুল কাদিরের গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার এ তারিখ ঘোষণা করেন।

রবিবার জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই পরীক্ষা পরিচালনার জন্য জরুরি কাগজপত্র মাদ্রাসাগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। গত ১৫ অক্টোবর ফরীদ উদ্দীন মাসঊদকে চেয়ারম্যান ও মুফতি মুহাম্মদ আলীকে মহাসচিব করে গঠিত হয় জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড।

রবিবার (৩০ অক্টোবর) বোর্ডের কার্যালয় রাজধানীর আফতাবনগরে অনুষ্ঠিত হয় পরীক্ষা সংক্রান্ত পরামর্শ সভা। এই বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতি ইবরাহীম শিলাস্থানী। সভায় উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আসআদ আল হুসাইনী, মুফতি আবদুল কাইয়ুম খান, মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী, মুফতি তৈয়্যবুর রহমান, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, মুফতি বশিরউল্লাহ প্রমুখ।

জানা গেছে, দেশের বৃহৎ কওমি মাদ্রাসা বোর্ড আল্লামা শফীর নেতৃত্বাধীন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)। এছাড়াও একাধিক বোর্ড রয়েছে, এর মধ্যে বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা, ইত্তেহাদুল মাদারিস-চট্টগ্রাম, আজাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ-সিলেট, তানজিমুল মাদারিস-উত্তরবঙ্গ অন্যতম। দেশের কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি নিয়ে সরকারে উদ্যোগে বাস্তাবায়ন হলে এই বোর্ডগুলো স্বতন্ত্র শিক্ষাবোর্ডের মর্যাদা লাভ করবে।

এছাড়া, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন পাস হলে ‘বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ’ এসব বোর্ডগুলোর প্রধান ব্যক্তিরা পদাধিকার বলে সদস্য হবেন। এই বোর্ডগুলোর সুপারিশের আলোকে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্য নিয়োগ, পদত্যাগ, অব্যাহতি নির্ধারতি হবে। এমন বিধান রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়ায়।

সূত্র জানায়, মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন পাস হলে এই পাঁচটি বোর্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ স্বীকৃতি আদায়, মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন পাস, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠনে ভূমিকা রাখেলে এসব বাস্তবায়নের পর এই বোর্ডগুলো না চাইলে কোন ধরণের ভূমিকা রাখতে পারবেন না। এ কারণে একটি বোর্ড গঠন করে সেই বোর্ড বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের অর্ন্তভূক্ত করা হলে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবেন। এ কারণেই ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বে নতুন কওমি মাদ্রসা শিক্ষা বোর্ড গঠন ও সেই বোর্ডটিকেও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের অর্ন্তভূক্ত করার উদ্যোগ।

তবে দেশের অনেক আলেমরা বলছেন, নতুন করে দেশে কওমি মাদ্রসা বোর্ড গঠন জরুরি নয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন বলেন, ‘পুরাতন অনেকগুলো বোর্ড আছে। নতুন কোনও বোর্ডের প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।’

এদিকে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের আগেরই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বোর্ডের কাজ চলছে। অনেকেই পরীক্ষার জন্য যোগাযোগ করছেন, এজন্য পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।’

নতুন বোর্ড গঠন প্রসঙ্গে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘অনেকগুলো মাদ্রাসা সব সময় আমার সঙ্গে ছিল। আমার নিজের মাদ্রাসাগুলো আবার আমার ছাত্র বা যারা আমার সঙ্গে কাজ তাদের মাদ্রাসা মিলিয়ে হাজারের উপরে মাদ্রাসা আছে। তারা মনে করছে, আমাদের সংগঠিত হওয়া উচিত। বেফাকের দাবি তাদের অধীনে আছে পাঁচ হাজার মাদ্রাসা আছে। এর বাইরেও দেশে বিশ হাজারের বেশি কওমি মাদ্রসা আছে। বাকি মাদ্রাসাগুলো কোথায় যাবে। বাকি মাদ্রাসাগুলোকে একত্রিত করার উদ্যোগ এটি। বিশেষ করে যারা সনদের স্বীকৃতি পক্ষে তারা একটি প্লাটফর্ম মাত্র।’