মেইন ম্যেনু

বৌদ্ধ থেকে শীর্ষ আইএস জঙ্গি হওয়ার কাহিনী

nil_prokash-is_31977_1480135493

নীল প্রকাশ একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। প্রায় ৫ বছর আগে তরুণ নীল প্রকাশের একজন বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল, সে কি ধার্মিক? এর জবাবে নীল বলেছিল- ‘আমি একজন বৌদ্ধ, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন।

এর জবাবে তার বন্ধু বলেছিল- ‘তাহলে তুমি বৌদ্ধ নও, তুমি বিভ্রান্ত।

সামান্য এই ক’টি বাক্য বিনিময়ই নীলের জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটে। মেলবোর্ন থেকে নীল চলে যায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কেন্দ্রস্থলে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নীল প্রকাশ হয়ে গেল আইএসের শীর্ষ সদস্য সংগ্রহকারীদের একজন, যার নাম আবু খালেদ আল-ক্যাম্বোডি।

অথচ নীলের ইচ্ছে ছিল সে একজন র‍্যাপ সঙ্গীত শিল্পী হবে। খবর বিবিসি বাংলা।

বছর দেড়েক আগে ২০১৫ সালের মে মাসে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরাকের মসুলে এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছে আইএস জঙ্গি নীল।

কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি দেশে নীলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে নীল নিজেকে তুরস্কের কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়।

তার মানে, নীল বেঁচে আছে। এতদিন বহাল তবিয়তেই বেঁচে ছিল।

নীলের জন্ম হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। তার বাবা এসেছেন ফিজি থেকে। মা ক্যাম্বোডিয়ার।

২০১২ সালে কুড়ি বছর বয়সে প্রথম ক্যাম্বোডিয়া সফর করে নীল। পরে আইএসের এক প্রচারণা ভিডিওতে নীল বলেছিল, ক্যাম্বোডিয়া গিয়ে যে বৌদ্ধ ধর্ম সে দেখেছে, তা তার কাছে ‘কোন মানে তৈরি করেনি’।

সেবার অস্ট্রেলিয়া ফিরে এসে মুসলমান ধর্ম গ্রহণে উদ্যত হয় সে, তবে এই ধর্মটি সম্পর্কে সে খুব কমই জানত।

পরে নীল একদল মুসলমান বন্ধুর সাথে সময় কাটাতে শুরু করে এবং ধর্মটি সম্পর্কে জানতে থাকে। এক পর্যায়ে সে কলেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর পরে মেলবোর্নে জুমার নামাজ পড়ানো হত এমন একটি স্থানীয় অবকাশ কেন্দ্রে গিয়ে হারুন মেহিচেভিচের সাথে পরিচিত হয় নীল। হারুন বসনিয়া থেকে মেলবোর্নে এসে বসতি করা এক অভিযুক্ত চরমপন্থি।

এরপর থেকেই নীল প্রকাশ মেলবোর্নের আল ফুরকান ইসলামিক সেন্টার এবং বইয়ের দোকানগুলোতে সময় কাটাতে শুরু করে। এসব জায়গাতেই সে হারুন এবং অন্যান্যদের দ্বারা চরমপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়।

কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত জীবনাচরণ বদলায়নি নীল, এক পর্যায়ে এ কারণে সে লজ্জিত হয়।

“আমি নিজেকে বললাম, এ আমি কি করছি? আমার চাকরি আছে, আমার রোজগার আছে, একটি গাড়ি আছে, ঘর আছে- তাহলে আমি কি আত্মত্যাগ করলাম? আল্লাহর জন্য আমি কি করলাম?”

এরপর তার সবকিছু বিক্রি করে দেয় নীল এবং ‘হিজরত’ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

২০১৩ সালে মালয়েশিয়া হয়ে সিরিয়ার রাক্কায় প্রবেশ করে নীল। তার ভাষায় যেটি ছিল ‘জিহাদের ভূমি’।

এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়াতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে নীল।

এরমধ্যে একটি ঘটনায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরি নিয়ে আক্রমণ চালায় এক ১৮ বছরের তরুণ নুমান হায়দার, যাকে পরে গুলি করে হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে আইএসের ১২ মিনিটের একটি প্রপাগাণ্ডামূলক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নীলকে নুমান হায়দারের প্রশংসা করতে দেখা যায়।

ওই ভিডিওতেই সে নিজেকে বদলানোর কাহিনী তুলে ধরে এবং অন্যদেরকে বদলাতে আহ্বান জানায়।