মেইন ম্যেনু

বৌদ্ধ-মুসলমান সম্পর্ক উন্নয়নে মিয়ানমারে কফি আনান

kofi-annan

মিয়ানমারে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এখন মিয়ানমারে অবস্থান করছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান।

মিয়ানমারের নতুন সরকার রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন পরিস্থিতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে যে নতুন কমিশন গঠন করেছে কফি আনান সেটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি কমিশনের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

মিয়ানমারের গনতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সূচির আগ্রহে কফি আনানকে এ কমিশনের প্রধান করা হয়েছে।

জাতিসংঘের সাবেক এ মহাসচিব এমন এক সময়ে মিয়ানমার সফর করছে যখন দেশটিতে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে হাজার-হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ করছে।

রাখাইন রাজ্যে সংঘাত কীভাবে বন্ধ করা যায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু মুসলমানদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য মিয়ানমার সরকারকে পরামর্শ দেবেন কফি আনান।

যদিও কফি আনান মিয়ানমারের বৌদ্ধ এবং মুসলমানদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে চান কিন্তু বাংলাদেশে অবস্থানরত জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে বিবিসিকে বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্মূল করতে চায়।

এ প্রেক্ষাপটে কফি আনান কতটা সফল হবেন সে বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা কফি আনানের নেতৃত্বে কমিশনকে পছন্দ করছে না। তারা এর আগে এ কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছিল।

প্রায় চারমাস আগে কফি আনানকে এ কমিশনের প্রধান করা হলেও তার কিছুদিন পরেই রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। রোহিঙ্গা মুসলমানদের অভিযোগ এবারের দমন-পীড়ন অতীতের যে কোনো মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে মুসলমানদের উপর হামলা ও নির্যাতনের বিষয়ে মিয়ানমারের সরকার বলছে কয়েকটি পুলিশ ক্যাম্পে হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত হবার পরে তারা এ অভিযান চালাচ্ছে। একইসঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করছে মিয়ানমারের সরকার।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ব্যাপক অত্যাচার ও নিপীড়নের অভিযোগ স্বত্বেও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূচির নীরবতার কারণে অনেকে তার সমালোচনা করছেন। তার নোবেল প্রাইজ কেড়ে নেওয়ার পক্ষে চলছে ভোটাভুটিও। সূত্র: বিবিসি।