মেইন ম্যেনু

ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকার জাকাত দিতে হবে কিনা?

সাধারণত জাকাতদাতার কোনো ঋণ থাকলে মূল টাকা থেকে ঋণের পরিমাণ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকার উপর জাকাত দিতে হবে, এটাই ইসলামের বিধান। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের এই যুগে ঋণের ধরনই বদলে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, যারা বড় বড় শিল্পপতি, পুঁজিপতি তারাই সবচেয়ে বেশি ঋণী। ব্যাংক থেকে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কল-কারখানা বানাচ্ছেন। নিজের পুঁজি সামান্যই বলা যায়। এই অবস্থায় ঋণের টাকা বিয়োগ করলে তাদের নিকট তেমন কিছুই আর থাকে না। পরিভাষায় এটাকে ডেভেলপমেন্ট বা উন্নয়নমূলক ঋণ বলে। মূল টাকা থেকে এইগুলি বাদ দিলে দরিদ্র মানুষেরা জাকাতের অনেক বড় একটা অংশ থেকে বঞ্চিত হবে।

এই ক্ষেত্রে মাসয়ালা হলো, যদি কেউ হাজতে আসলিয়া অর্থাৎ নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু তথা- বাসস্থান, পরিধেয় বস্তু, ঘরের আসবাবপত্র, যানবাহন ইত্যাদি ক্রয় বাবদ ঋণ নিয়ে থাকে তাহলে তা জাকাতের নিসাব হতে বাদ দিতে হবে। আর যদি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য না হয়ে বরং ব্যবসা-বাণিজ্য বা মিল-করখানার জন্য শিল্প ঋণ নেয় হয় তাহলে দেখতে হবে এই টাকা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে। যদি উক্ত টাকা দিয়ে এমন কিছু বানানো হয় যার ওপর জাকাত আসে। যেমন মিল-ফ্যাক্টারি, মেশিনারিজ ইত্যাদি তাহলে ঐ ঋণ জাকাতের নেসাব থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। কেননা এই ঋণ নিয়ে যেহেতু সম্পদ তথা মিল-কারখানা করা হয়েছে সুতরাং একদিকে তার ঋণ আছে অপরদিকে তার পরিবর্তে সম্পদও আছে। কারণ নিয়ম হলো- মালিক কখনো ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হলে এই সম্পদ থেকে ব্যাংক তার প্রাপ্য উসুল করে নেবে। তাই এই ধরনের ঋণ জাকাতের নেসাব থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

আর যদি উক্ত ঋণ নিয়ে ব্যবসার মালামাল ক্রয় করা হয় তাহলে সেই ঋণ হতে চলতি বছরের পরিশোধযোগ্য কিস্তি পরিমাণ জাকাতের নিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। এমনিভাবে প্রত্যেক বছর যে পরিমাণ কিস্তি পরিশোধ করতে হবে সেই পরিমাণ বাদ দিয়ে বাকি সম্পদের উপর ঐ বছরের জাকাত দিতে হবে। [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৭২]