মেইন ম্যেনু

ব্যাডমিন্টন তারকা হলেন ‘পর্ন স্টার’!

খেলোয়াড় হওয়াও বিড়ম্বনা এই দেশে। থুড়ি, বলা ভাল মহিলা খেলোয়াড়। তাঁদের কৃতিত্ব, কীর্তিকে খাটো চোখে দেখা হয়। কেউ এর সঙ্গে একমত হবেন। আবার কেউ হবেন না। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। দিনকয়েক আগে সানিয়া মির্জা টুইট করেছিলেন, মহিলাদের টেনিস সার্কিটে তিনি একনম্বর জায়গা ধরে রেখেছেন।

এই টুইটের অব্যবহিত পরেই ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকর কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সানিয়াকে। সঞ্জয়কে পাল্টা দেন সানিয়াও। সঞ্জয় মঞ্জরেকর ক্রিকেটার। যথেষ্ট সুনাম রয়েছে তাঁর। সেই তিনিই যদি এমন ধরনের মন্তব্য করতে পারেন সানিয়াকে নিয়ে, তাহলে বাকিদের থেকে কী আশা করা যায়! মহিলা খেলোয়াড়রাই বা কী আশা করবেন? আদৌ কি তাঁরা কিছু আশা করেন? মনে হয় না।

সানিয়া, ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার জ্বালা গুট্টা, ক্রীড়া সঞ্চালিকা মায়ান্তি ল্যাঙ্গার — এঁরা সবাই ভারতে জনপ্রিয়। প্রত্যেকেরই ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সোশ্যাল সাইটে তাঁরা বেশ ‘অ্যাক্টিভ’। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দেশের এই জনপ্রিয় তারকাদের ছেড়ে কথা বলেন না সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। যাচ্ছেতাই সব মন্তব্য তারা করেন দেশের সোনার মেয়েদের। তাঁদের ফেসবুক—টুইটার—ইনস্টাগ্রাম ফ্রেন্ডদের কাছ থেকে উড়ে আসে বাছাই করা সব নোংরা মন্তব্য। ভক্তদের এহেন ‘অত্যাচার’ এখন গা সওয়া হয়ে গিয়েছে সানিয়া-জ্বালাদের।

তিনি, জ্বালা গুট্টা কী মনে করছেন? কী বলছেন? একটি ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভক্তদের ছেড়ে কথা বলেননি হায়দরাবাদের ব্যাডমিন্টন তারকা। তিনি বলেছেন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ভক্তদের ‘বিশেষ, বিশেষ’ মন্তব্যগুলো এখন আর তিনি পড়েও দেখেন না।

প্রথমদিন থেকেই ভক্তদের কুরুচিকর অত্যাচার সহ্য করে এখন সব গা সওয়া হয়ে গিয়েছে তাঁর কাছে। নিজেদের বিকৃত রুচির পরিচয় দিতে গিয়ে ভক্তরা ভুলে যান, দেশের এই মহিলা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের কথা। সাক্ষাৎকারে জ্বালা বলেছেন, ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি কুৎসিত, নোংরা মন্তব্য করা হয়। তার পরেই রয়েছে ইনস্টাগ্রাম। সবশেষে টুইটার।

এখন আর ভক্তদের মন্তব্য নিয়ে মাথাই ঘামান না জ্বালা। কদর্য মন্তব্যগুলো কি তাঁকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করে না? জ্বালা চিরকালই বিতর্কিত। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়। সেই জ্বালা গুট্টা বলছেন, কমেন্টগুলো পড়ে তো খারাপ লাগারই কথা। তবে যাঁরা এই ধরনের মন্তব্য করছেন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে, তাঁরা আসলে ভীরু মানসিকতার।

নিজেদের পরিচয় তাঁরা গোপন রেখে, মুখোশের আড়ালে থেকে নোংরা মন্তব্য করে চলেছেন। এই লোকগুলোই যদি সামনে জ্বালা গুট্টাকে দেখেন, তাহলে হয়তো সেলফি তোলার জন্য আব্দার জুড়ে দেবেন। ভারতের নামকরা এই ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়কে ‘জ্বালা ম্যাম’ বলে সম্বোধনও করবেন। গত ১৭ নভেম্বর জ্বালা একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে।

সেই ছবি দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। লাইকের ঝড় উঠেছে। সেই সঙ্গে ভক্তদের বাছাই করা সব বিশেষণও জুটেছে জ্বালার কপালে। প্রমোদ রাজ নামে এক ভক্ত তো ছবি দেখে বলেই ফেলেছেন, ‘কে আপনি? পর্ন স্টার? ফিল্ম স্টার? নাকি স্পোর্টস স্টার? আপনি কে বলুন তো? কী চান আপনি?’

দেশকে পদক, ট্রফি এনে দেওয়া জ্বালা গুট্টা ফেসবুক ফ্রেন্ডের দৌলতে হয়ে গেলেন ‘পর্ন স্টার’! সব দেখেশুনে জ্বালা সেই ওয়েবসাইটে বলছেন, ‘এইসব লোক আমাকে কী মনে করে? আমার সাজপোশাক অন্যরকম হতে পারে। তার মানে এই নয় যে আমাকে খুব সহজেই পাওয়া যাবে।’