মেইন ম্যেনু

বয়স ১৬ থেকে ৩৬-এর মধ্যে? তবে সাইবার দুনিয়ায় আপনার বিপদ সবচেয়ে বেশি!

fghj

আজকের প্রজন্ম ইন্টারনেট ছাড়া জীবনযাপনের কথা ভাবতেই পারে না। মোটামুটিভাবে ১৯৮০ সালের আশেপাশে যাঁদের জন্ম, তাঁরাই এদেশের প্রথম ই-মেল এবং ইন্টারনেট জেনারেশন। এঁরা ‘গুগল’ সার্চ ইঞ্জিনকে চোখের সামনে জন্মাতে দেখেছেন। ‘অরকুট’ ছাড়িয়ে ‘ফেসবুক’, ‘ফেসবুক’ থেকে ‘হাইক মেসেঞ্জার’— এই প্রজন্ম প্রত্যেক মুহূর্তেই নিজেকে আপডেট করে চলেছে। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে এঁরাই কিন্তু আজ সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখোমুখি।

সম্প্রতি ‘নর্টন সাইবার সিকিউরিটি ইনসাইট’ শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সিমান্টেক। এই রিপোর্টেই বলা হচ্ছে ১৯৮০-২০০০ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম, সেই মিলেনিয়াল প্রজন্মের মধ্যে নিজেদের পাসওয়র্ড অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। গত বছর এই প্রজন্মের ৫৫ শতাংশ ভারতীয় সাইবার ক্রাইমের কবলে পড়েছেন। সিমান্টেকের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ট্রেন্ড শুধুই এদেশের নয়। সারা পৃথিবীতেই মিলেনিয়াল প্রজন্মের ৪০ শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছে এবং ভারতীয়দের ক্ষেত্রে পাসওয়র্ড শেয়ার করার প্রবণতাই এর মূল কারণ।

সিমান্টেকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩৪ শতাংশ মিলেনিয়াল ভারতীয় তাঁদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়র্ড অন্যদের জানিয়েছেন এবং গত এক বছরে তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগের থেকেই ব্ল্যাকমেল করে টাকা চাওয়া হয়েছে। ভারতে সাইবার ক্রাইমের শিকার এই মিলেনিয়ালদের মধ্যে ৮০ শতাংশই এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। আবার এঁদের মধ্যে ১৮ শতাংশ ব্ল্যাকমেলারদের টাকা দিয়েও তাঁদের ব্যক্তিগত ফাইলগুলি বা ডেটা ফেরত পাননি। তবে শুধুমাত্র যে পাসওয়র্ড শেয়ার করেই এই বিপদে পড়ছেন মিলেনিয়ালরা তা কিন্তু নয়।

প্রতিবেশীর ওয়াই-ফাই কানেকশন বা কোনও পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে গিয়েও বিপদ ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রেই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার জন্য কোনও থার্ড পার্টি অ্যাপ ফোনে ডাউনলোড করতে বলা হয় বা ফোনে স্টোর করা অন্যান্য ফাইলের অ্যাকসেস চাওয়া হয়। ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারের লোভে অনেকেই সেগুলি করে থাকেন এবং তার জন্য অফ করে দেন ফোন বা ডিভাইসের সিকিউরিটি সফটওয়্যার। আর সেই সুযোগটাই নেয় সাইবার ক্রিমিনালরা।

এই ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হল কিছু ভাল অভ্যাস মেনে চলা। যেমন, পাসওয়র্ড কখনওই কারও সঙ্গে শেয়ার না করা, ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকা যাতে ভুলবশত কোনও পপ-আপ অ্যাড বা অ্যাডাল্ট সাইটের বিজ্ঞাপনে ক্লিক না হয়ে যায়, ফোন বা ডিভাইসে খুব ভাল টোটাল সিকিউরিটি প্যাক ইনস্টল করা এবং পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা।