মেইন ম্যেনু

ভাইয়ের জন্য ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেন বৃদ্ধা

b-bria-pic20161107212331

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানা ভবনের সামনে খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা রুবিনা বেগম। তার চাচাতো ভাই গোলাপ ও ভাতিজা হৃদয়কে রোববার সন্ধ্যায় ধরে নিয়ে যায় নাসিরনগর থানা পুলিশ।

রোববার হৃদয় ও গোলাপসহ মোট ২১ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তাদের নাসিরনগরে হিন্দুপল্লীতে চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাসিরনগর থানা ভবনের সামনে কথা হয় বৃদ্ধা রুবিনা বেগমের। তিনি জানান, তার বাড়ি নাসিরনগর উজেলার দাঁতমণ্ডল গ্রামে। রোববার রাত ৮টার দিকে উাপজেলার কলেজ মোড় থেকে তার চাচাতো ভাই গোলাপ ও ভাতিজা হৃদয়কে পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হৃদয় আর গোলাপ তার ভাই রাজ্জাকের সঙ্গে ঢাকায় একটি ব্যাগের ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। বৃহস্পতিবার তারা হবিগঞ্জের লাখাইয়ে তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে আসেন। সেখানে দুদিন থেকে রোববার রাতে নাসিরনগরে বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তারা লাখাই থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড়ে এসে নামেন। এ সময় পুলিশ কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু থানা থেকে হৃদয় ও গোলাপকে আটকের কথা জানানো হয়নি।

তিনি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি হৃদয় ও গোলাপের জন্য খাবার নিয়ে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত থানা ভবনের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ রুবিনাকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হিন্দুপল্লীতে চালানো তাণ্ডবের সময় হৃদয় ও গোলাপ নাসিরনগরে ছিল না। তারা তখন ঢাকায় ছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের অভিযোগ ছাড়াই ধরে নিয়ে এসেছে।

থানা ভবনের সামনে ছেলের জন্য অপেক্ষা করা আরেক বৃদ্ধা অনেরা খাতুন জানান, তার ছেলে শফিকুল দুই মাস ধরে বিদেশে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। বাড়ি-ঘর বিক্রি করে তিনি বিদেশের জন্য টাকা জমা দিয়েছেন।

নাসিরনগরে তাণ্ডবের দিন শফিকুল ঢাকায় ছিল দাবি করে তিনি বলেন, রোববার হবিগঞ্জ থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার কলেজ মোড় থেকে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে আসে।

সকাল থেকেই ছেলে গিয়াস উদ্দিনের দেখা পেতে ছেলের বউকে সঙ্গে নিয়ে থানা ভবনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন উপজেলার চৌধুরীপাড়ার ছিলমহর বানু।

তিনি বলেন, গত দুই মাস ধরে তার ছেলে গিয়াস উদ্দিন বাড়ির বাইরে। হিন্দুপল্লীর ঘটনার সময় গিয়াস বাড়িতে ছিল না। রোববার বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে ফান্দাউক থেকে পুলিশ গিয়াসকে ধরে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে গিয়াসকে দেখার জন্য সকালে থানায় ছুটে আসলেও পুলিশ আমাদের দেখা করার সুযোগ দেয়নি।

রুবিনা বেগম, অনেরা খাতুন আর ছিলমহর বানুর মতো এমন আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ তাদের নিরপরাধ স্বজনদের ধরে নিয়ে এসেছে।

তবে পুলিশ বলছে, তাণ্ডবের সময় ধারণৃকত ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমের শনাক্ত করেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর-দফতর) রাজন কুমার দাস বলেন, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করেই তাদের ধরা হয়েছে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফকে ব্যঙ্গচিত্র করে পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু পল্লীতের তাণ্ডব চালায় দুস্কৃতিকারীরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আড়াই হাজার মানুষকে আসামি করে নাসিরনগর থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় এ পর্যন্ত ৭৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।