মেইন ম্যেনু

ভারতে গুপ্তচরবৃত্তি, পাকিস্তানিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ

1477568714-india-pak2

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনের এক কর্মকর্তাকে ভারত ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দিল্লির এক চিড়িয়াখানা থেকে মোহাম্মদ আখতার নামের পাকিস্তানি ওই কর্মকর্তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে কূটনৈতিক দায়মুক্তির বদৌলতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিলেন আখতার। তাঁকে তথ্য দিচ্ছিলেন মাওলানা রমজান ও সুভাষ জাংগির। তাদের আটক করা হয়েছে।

আখতারকে ভারতে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি (পারসনা নন গ্রাটা) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পাকিস্তানি হাইকমিশনার আবদুল বাসিতকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করের কাছে আবদুল বাসিত জোরালো প্রতিবাদ জানান। পাকিস্তানি হাইকমিশনার বলেন, ‘আখতারকে আটক ও টানাহেঁচড়ার কারণে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘিত হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, তিন বছর আগে আখতারকে নিয়োগ দেয় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)। পরে তাঁকে দিল্লির হাইকমিশনে পাঠানো হয়। হাইকমিশনের ভিসা সেকশনে কাজ করতেন তিনি। গুপ্তচর সংগ্রহের জন্যই তাকে এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে, আটক মাওলানা রমজান ও সুভাষ জাংগির প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে পুলিশ জানায়। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে যেসব নথি জব্দ করা হয়েছে তাতে সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী বা সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মোতায়েনের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান ও সাবেক সেনা সদস্যদের নামও এতে রয়েছে।’

নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতি মাসে আখতার ও অন্য দুজন সাক্ষাৎ করতেন। বুধবার তাদের সাক্ষাতের জায়গায় ছিল চিড়িয়াখানা।

আটক মাওলানা রাজস্থানের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন। তিনি মুদি দোকানি সুভাষকে দলে ভিড়িয়েছিলেন। কারণ অর্থের দরকার ছিল। তথ্য বিনিয়মের পরিবর্তে তাদের ৫০ হাজার রুপির বেশি অর্থ দেওয়া হতো।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের উরি সেনাঘাঁটিতে হামলায় ১৯ সেনা নিহত হয়। পরে ভারতও পাকিস্তানের ভূখণ্ডে অভিযান চালায়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।