মেইন ম্যেনু

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৯

ভারতের কানপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। হতাহতদের উদ্ধারে সোমবার রাতভর সেখানে কাজ করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে নিহতের এ সংখ্যা জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় রবিবার ভোর ৩টার দিকে পুখরাইয়ার কাছে ইন্দোর থেকে পাটনাগামী ভারতীয় রেলের ১৯৩২১ এক্সপ্রেস ট্রেনটির ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কবলে পড়ার সময় ভিড়ে ঠাসা ট্রেনটির বেশির ভাগ যাত্রীই ছিলেন গভীর ঘুমে। দুর্ঘটনায় ওই ট্রেনের অন্তত ১৪টা কামরা একেবারে দুমড়েমুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময়ে অধিকাংশ যাত্রী ঘুমন্ত ছিলেন। তাই অনেকেই আটকা পড়েন দুর্ঘটনার কবলে পড়া ১৪ বগির ভেতরে।

এদিকে কানপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘ভারতের উত্তর প্রদেশে ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এবং আমার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমরা শোকাহত পরিবারগুলোর জন্য প্রার্থনা করছি।’

দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। আহতদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রেলকর্মীরা বিবিসিকে বলেছেন, গ্যাস কাটার দিয়ে খুব সাবধানে আমাদের ট্রেনের মেটাল কাটতে হচ্ছে, যাতে ভেতরে মানুষজনদের কোনও ক্ষতি না হয়।

হিন্দুস্থান টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর ৯০ সদস্য দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করছেন তারা। দুর্ঘটনাস্থলে ৪ সামরিক ডাক্তার, ২০ প্যারামেডিকস এবং ২টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর কথাও জানিয়েছে হিন্দুস্থান টাইমস।

ট্রেনটি যখন উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি স্টেশন ছাড়িয়ে কানপুরের দিকে তীব্র গতিতে ছুটছে, তখনই হঠাৎ ট্রেনের প্রায় সবগুলো কামরা লাইন থেকে ছিটকে যায়। বিকেল ৪টার মধ্যেই দুমড়ানো বগিগুলোর মধ্যে থেকে শতাধিক মৃতদেহ বের করা সম্ভব হয়।

দুর্ঘটনার ব্যাপ্তি এতটাই বড় ছিল যে রেল প্রশাসন এবং উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারের পক্ষেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সামলানো সম্ভব নয় – সেটা স্পষ্ট হয়ে যায় এদিন সকালেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, সরকার ভারতের ন্যাশনাল ডিজেস্টার রেসপন্স ফোর্সের তিনটি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বারাণসী, গাজিয়াবাদ ও দিল্লি থেকে এনডিআরএফ-এর তিনটি দল সেখানে পৌঁছে গেছে – বাহিনীর মহাপরিচালককেও আমি বলেছি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিতে। ঘটনাটা খুবই বিরাট – নিহতদের সকলের পরিবারকে আমি সমবেদনা জানাই। এই দুর্ঘটনার তদন্ত অবশ্যই হবে – যতদূর জানি সেই নির্দেশও জারি হয়ে গেছে।’

রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুও ইতিমধ্যে টুইট করে জানান, ‘এই দুর্ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে ভারতের উত্তর-মধ্য রেলের মুখপাত্র বিজয় কুমার বলেন,‘একটি মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। অন্য যাত্রীদের যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় তার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ বিজয় কুমার আরও জানান, ট্রেনের এস-২ কামরাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার জানিয়েছেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দলজিৎ সিং চৌধুরি জানান, গ্যাস কাটারসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ট্রেনের ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।