মেইন ম্যেনু

ভয়াবহ ২৬/১১ হামলা: নেপথ্যে ‘জড়িত শত্রু সেনার’ পরিচয় ফাঁস!

আট বছর আগে এই দিনেই স্তব্ধ হয়েছিল ভারতের মুম্বাই। উপকূল পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে বাণিজ্যনগরীতে ঢুকে পড়েছিল আজমল কাসভরা। সন্ত্রাসের থাবায় কেঁপে সেদিন উঠেছিল গোটা ভারত। দিন গড়িয়ে গেলেও আতঙ্কের সেই দিন আজও যেন দেশবাসীর কাছে দুঃস্বপ্ন। সেদিনের ভয়াবহতার কথা ভেবে আজও শিউরে ওঠেন ভারতীয়রা। শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন সেদিনের নিহতদের।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, মুম্বাই হামলায় পাক সেনার যোগ আগেই প্রমাণিত হয়েছিল। বছর আষ্টেক পর সে তথ্য যেন আরও দৃঢ় হল৷ চার্জসিটে যে প্রাক্তন পাক সেনার নাম ছিল, তার সম্পর্কে মিলেছে বিস্তারিত খোঁজখবর৷ কর্নেল সাদাত উল্লাহ নামে ওই পাক সেনার কোনও ছবি এতদিন ছিল না চার্জসিটে৷ তাঁর আবাস, কাজকর্ম সম্পর্কেও তেমন কিছুই জানা ছিল না৷ তবে সম্প্রতি সে তথ্য এসেছে ভারত সরকারের হাতে।

জানা যাচ্ছে, ওই প্রাক্তন সেনা বর্তমানে থাকেন দক্ষিণ লাহোরে৷ সেনা প্রাক্তনীদের আবাসনেই বাস তাঁর। এখন নানা সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত। মুম্বাইতে জঙ্গি হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই পাক সেনার৷ পাক অধীকৃত কাশ্মীরে টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে কাজ করতেন ইনি৷ যা পাক সেনার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত৷ লস্কর জঙ্গিদের জন্য নিউ জার্সির এক ভয়েস ওভার প্রোটোকল সার্ভিস প্রোভাইডারে অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিলেন তিনি৷ এর মাধ্যমেই হ্যান্ডলাররা মুম্বইয়ে জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পেরেছিল৷একটি ইমেলের সূত্র ঘাঁটতে গিয়ে উঠে এসেছে এই সেনার নাম৷ প্রমাণ হয়েছে তাঁর ভূমিকা।

এতদিন পর্যন্ত এই প্রাক্তন সেনার সম্পর্কে খোঁজ চলছিলই৷ তবে বিস্তারিত কিছু পাওয়া যায়নি৷ তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি ছিল৷ কিন্তু টিকির নাগাল তো দূরের কথা, একটা ছবিও মেলেনি৷ কিন্তু সম্প্রতি তা সম্ভব হয়েছে৷ তাঁর বাসস্থান, ইমেল আইডি এবং মুম্বই হামলায় তাঁর যোগাযোগের প্রমাণ দৃঢ় হয়েছে৷ মুম্বই হামলা সংক্রান্ত মামলার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর উজ্জ্বল নিকম জানাচ্ছেন, নয়া এই তথ্য ভারতের পক্ষে সহায়ক হবে৷ ২৬/১১ হামলার অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে বিচারাধীন করার চেষ্টায় আরও সক্রিয় হতে পারবে সরকার। -সংবাদ প্রতিদিন।
\