মেইন ম্যেনু

ভয়ের কথা জানিয়ে ট্রাম্পের কাছে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের চিঠি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভ করেছে মানুষ। আমেরিকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন এই দলে। এমনকি ট্রাম্পকে নিয়ে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও যেন চিন্তার শেষ নেই। তার ক্যাম্পেইন অনেক শিশুর কাছেই ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্নভাবে।

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্কুল ও ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হয়রানি বিষয়ে প্রতিবেদন হয়ে আসছে। নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অস্বস্তিকর আলোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্রুকলিন নিউ স্কুলের প্রিন্সিপাল অ্যানা অ্যালানব্রুক জানান, ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় সবকিছু নিয়েই বেশ ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছিল এখানে। কিন্তু ট্রাম্পের নির্বাচন নিয়ে পরিবেশটাই যেন কেমন হয়ে গেছে। আসলে বিভিন্ন বক্তব্য প্রদানকালে ট্রাম্প এমন সব ভয়ানক কথা বলেছেন যে তা শুনে ভয় পেয়ে যায় শিশুরা। বড়রাই যেখানে চিন্তিত, সেখানে শিশুরা তো ভয় পাবেই। ট্রাম্পের আচরণ ও কথায় ধাক্কা খেয়েছে শিশুরা।

অনেক শিক্ষার্থীদের কাছে মনে হয়েছে, ট্রাম্প যেসব কথা বলছেন তা হয়তো এখন থেকেই তাদের জীবনে শুরু হয়ে যাবে। আর এ নিয়েই ভয় পেয়ে যায় তারা।

প্রিন্সিপাল আরো বলেন, আমরা ক্লাসরুমে রাজনীতি আনতে চাই না। কিন্তু একমাত্র এই নির্বাচনের পর এমনটা হয়েছে। নয়-এগারোর পর সবাই নিজেদের একটা সমাজে আবদ্ধ করেছিল। কিন্তু এই নির্বাচনের পর সব কেমন যেন নাটকীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে।

এক শিক্ষার্থী তার খাতায় চিঠি লিখেছে ট্রাম্পের কাছে। সেখানকার ভাষা অনেকটা এমন, প্রিয় ডোনাল্ড ট্রাম্প, যখন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, আশা করি যে আপনি যেসব বর্ণবাদী কথা বলেছেন তা করবেন না।

ট্রাম্পের হোমটাউট নিউ ইয়র্ক সিটি। এখানে মানুষ রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাপক ভোট দিয়েছে। কিন্তু এখানকার অনেক মানুষই বিষয়টি মেন নিতে পারছেন না। এমনকি স্কুলের বহু শিক্ষার্থীর মন ভেঙে গেছে। ক্লাস এবং ক্লাসের বাইরে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানান অ্যানা। সিঁড়িতে এক ছাত্রকে অন্যরা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। কারণ তার গায়ে ট্রাম্পের ছবিসহ পোশাক ছিল।

ম্যানহাটান হাই স্কুলের এক শিক্ষক জানান, এক ক্লাসে আফ্রিকান-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা তাদের অন্ধকার ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করছিল। একজন শিক্ষার্থী জানান, ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর থেকে স্কুলে আসার শোরগোলপূর্ণ সাবওয়েতে যেন স্তব্ধতা নেমে এসেছে। অনেক শিক্ষার্থীর ভয়, তাকে হয়তো এখনই স্কুল ছাড়তে হবে। অথচ তার লেখাপড়া এখনো বাকি। আসলে ট্রাম্পের জয়ে এখানকার অনেক শিক্ষার্থী রীতিমতো দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছেন। তার বিজয়ে এই শিক্ষার্থীদের প্রিয়জনদের যেন আক্রমণ করেছে।

ইস্ট ভিলেজ কমিউনিটি স্কুলের ফার্স্ট গ্রেড শিক্ষক জেমস প্রিমেসবার্জার জানান, নির্বাচনের পর তিনি হঠাৎ করেই খেয়াল করলেন, স্কুলে সবার মন ভার হয়ে রয়েছে। আমার মনে হয়, নতুন সরকারকে জানাতে হবে যে তারা কি অনুভব করছে। এর মাধ্যমে নারগরিকদের মতামত উঠে আসবে।

চিলড্রেন্স ওয়ার্কশপ স্কুলের শিক্ষক জেসিকা গিপসন তার স্কুলে আসন্ন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে চিঠি লেখার ক্যাম্পেইন করেন। তাতে ফিফথ-গ্রেডের শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু লখেছে। একজন লিখেছে, তিনি (ট্রাম্প) এত বেশি রাগী যে আমাদের কথা শুনবেন না। কেউ লিখেছেন, মানুষ নিয়ে মজা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরেকজন লিখেছেন, ওবামা ছিলেন ভালো প্রেসিডেন্ট, তিনি গরীবদের সহায়তা করতেন। আরেক শিক্ষার্থী লিখেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মানে হিলারিই ভালো প্রেসিডেন্ট হতেন। এসব আরো বিভিন্ন কথা উঠে এসেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা কি চায় তা তুলে ধরেছেন গিপসন। তারা চায়-

১. আশা করি আপনি দেয়াল তৈরি করবেন না। কারণ মেক্সিকোতে আমার বন্ধু ও পরিবার রয়েছে। এটা উচিত নয়।

২. আশা করছি আপনি আরো কম বর্ণবাদী হবেন।

৩. আশা করি আপনি নারীদের শ্রদ্ধা করবেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ নন বা পুরুষের মতো স্মার্ট নন এমনটা ভাববেন না।

৪. আশা করি আপনি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধবোধ রাখবেন এবং মানুষকে নিয়ে কৌতুক করা উচিত নয় বুঝতে পারবেন।

৫. এলজিবিটিকিউ (লেসবিয়ান, গে,বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার এবং কুইর) সমাজের ক্ষেত্রে সম-অধিকার দেবেন আপনি।

৬. আশা করছি পুলিশ কতটুকু ক্ষমতা পাবে তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজের নীতিকে আবারো বিবেচনা করবেন আপনি।

৭. আশা করছি আপনি ইমিগ্রেন্টদের বিতাড়িত করবেন না। বর্ণ ও ধর্ম অনুযায়ী এ কাজ করবেন না।

৮. আশা করি আপনি নিউক্লিয়ার অস্ত্রের বদলে কূটনীতি প্রয়োগ করবেন।

৯. আপনি মানুষকে সেভাবেই বিবেচনা করবেন ঠিক যেভাবে নিজে বিবেচিত হতে চান। সূত্র : এসএমএইচ