মেইন ম্যেনু

পাবনা মানসিক হাসপাতাল

মরলেও তাদের ফেরত নেয় না স্বজনরা

21

তাদের কেউ আছেন ২০ বছর ধরে। কারো পার হয়েছে দুই যুগ। তারা এখন সুস্থ। কিন্তু স্বজনরা নিচ্ছে না বলে বাড়ি ফিরতে পারছেন না তারা। তাদের সঙ্গে যোগোযোগও নেই স্বজনদের। পাবনা মানসিক হাসপাতালে এমন রোগী আছেন ২৩ জন। সুস্থ হওয়ার পরও বছরের পর বছর হাসপাতালের চার দেয়ালে বন্দিজীবন কাটছে তাদের।

একই অবস্থা মৃত্যুর পরও। এখানে রোগীর মৃত্যু হলে লাশ নেয় না স্বজনরা। হেমায়েতপুর কবরস্থানে ঠায় হয় এই হতভাগ্যদের।

কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগী সুস্থ হওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কাজ হয় না। রোগী ফেরত নেয় না তারা। কোনো রোগী মারা গেলে মরদেহও নিতে চায় না অনেক পরিবার।

এখানে ভর্তি করানোর পর স্বজনরা একবারের জন্য খোঁজ নেয়নি এমন অনেক হতভাগ্য রোগীও আছেন এই হাসপাতালে। তাদের মধ্যে দুজন গত বছর মারা গেছেন। হাসপাতাল থেকে দুজনের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছিল। পরিবার লাশ নেয়নি।

পাবনা মানসিক হাসপাতাল ঘুরে এমন সব তথ্য মিলেছে।

ঢাকার মগবাজারের নয়াটোলা এলাকার আবুল হাশেম মিয়ার ছেলে সাঈদ হোসেন। ১৯৯৬ সালের ২২ জুলাই মানসিক রোগী হিসেবে তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। এরপর কেটে গেছে ২০ বছর। সুস্থ হয়ে উঠেছেন সাঈদ। কিন্তু পরিবারের ভুল ঠিকানার কারণে বাড়ি ফিরতে পারছেন না তিনি।

সুস্থ্ ও সুন্দর জীবন যাপনের বাসনা নিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সাঈদের মতো আরও ২২ জন। স্বজনদের উদাসীনতা আর অবহেলায় তাদের দিন কাটছে হাসপাতালে চার দেয়ালের ভেতর।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রোগী ছিলেন মাহবুব আনোয়ার। হাসপাতাল পরিদর্শন করতে যাওয়া লোকজনের কাছে তিনি দিনের পর দিন আর্তি জানিয়ে গেছেন তার বাড়িতে যেন একটু খবর দেয়া হয়। কেউ তার ওয়ার্ডের সামনে গেলে মাহবুব করুণ স্বরে ঠিকানা জানিয়ে বলতেন, ‘বাড়ির কাউকে খবর দেবেন, আমাকে যেন নিয়ে যায়।’ মাহবুবের সেই আর্তি আর কেউ শুনবে না। তার মৃত্যুর পরে লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাহবুবের স্বজনদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা সাফ জানিয়ে দেয়, লাশ নেবে না। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ হেমায়েতপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করে।