মেইন ম্যেনু

মশুর ডালের খুচরা বাজার ‘লাগামহীন’

market-grocery-shop

নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্য শশুর ডাল পাইকারি দামের চেয়ে ‘অস্বাভাবিক’ বেশি দামে বিক্রি করছেন রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার সরেজমিনে ঢাকার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মশুর ডাল পাইকারি বাজারের চেয়ে অন্তত ২৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতারা দেশি মশুর ডাল বিক্রি করছেন কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। অথচ এই ডাল অদূরেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা ১১৫ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন।

দামের এই ফারাক নিয়ে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দেশি মশুর ডালের দাম সম্প্রতি কমলেও তারা এখন যে ডাল বিক্রি করছেন, তা ওই সময়ের আগে কেনা। এখন দাম সমন্বয় করতে গেলে তাদের লোকসান হবে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ডাল বিক্রেতা সোলায়মান মৃধা বলেন, “যে ডাল আমরা বিক্রি করছি, তা আগের দরে কেনা হয়েছিল। এখন যদি দাম কমাই তাহলে আমাদের ক্ষতি। স্টকের ডাল শেষ হওয়া পর্যন্ত দাম কমানোর সুযোগ নাই।”

বেশি দাম রাখার কথা অস্বীকার না করে একই বাজারের আরেক খুচরা বিক্রেতা আমজাদ হোসেন বলেন, “পাইকারদের সাথে তো আমাদের তুলনা চলে না। তারা ডাল বিক্রি করে বস্তা হিসেবে, আমরা করি এক পোয়া, আধা কেজি।”

এসব বক্তব্য নাকচ করে পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, সরকারের যথাযথ নজরদারি না থাকার কারণেই খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম রাখছে।পাইকারি বাজারে দেশি মশুর ডাল এখন যে দরে বিক্রি হচ্ছে, তা দুই মাস আগের দর।

চকবাজারের ডালের আড়ৎ ‘শোভা বাণিজ্য বিতান’ এর স্বত্ত্বাধিকারী শফি আহমেদের বলেন, “ডালের দাম কমেছে গত সেপ্টেম্বর মাসে। ওরা (খুচরা ব্যবসায়ী) অস্বাভাবিক বেশি দামে ডাল বিক্রি করছে। নজরদারি ও তদারকির অভাবেই এটা হচ্ছে।”

সরকার কঠোর না হওয়ায় খুচরা ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে বেশি দাম রাখে বলে অভিযোগ করলেন ডালের আরেক পাইকারি বিক্রেতা ‘মীম এন্টারপ্রাইজ’ এর মালিক শফিকুল ইসলাম।

বলেন, “এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে…। বাজার তদারকির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে, এফবিসিসিআই কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।”

এদিকে হেমন্তের শেষে সারা দেশে আমন ধান ওঠা শুরু করলেও রাজধানীর চালের বাজারে এখনো তার প্রভাব পড়েনি।

ঢাকার বাজারগুলোতে মানভেদে মিনিকেট কেজিপ্রতি ৪৮ টাকা থেকে ৫২ টাকায়, নাজিরশাইল ৫০ থেকে ৬৫ টাকা, বিআর-২৮ ৪৬ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; মোটা পারিজাত ও স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই; প্রতি কেজি ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা।

চালের দাম না কমায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে বাজার করতে আসা ওয়াজেদ হোসেন বলেন, “মেজাজ খারাপ হয়ে গেল চাল কিনতে। সেই কবে থেকে চালের দাম বেড়েছে। এখনো কমার লক্ষণ নেই।”

এবিষয়ে কাওরান বাজারের হারুন রাইস এজেন্সির স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান খান বলেন, এখন পাইজাম, নাজিরশাইল, গুটি স্বর্ণা- এই চালগুলো এখন বাজারে উঠবে। তবে ঢাকার চালের বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “ঢাকায় চলে মূলত মিনিকেট আর বি আর-২৮। এগুলো উঠবে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। এর মধ্যে যদি ভারত থেকে চাল আসে তাহলে দাম কমবে।”

এছাড়া বাজারে এক সপ্তাহে লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে এলাচ ও জিরার দাম। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ১০০০ টাকায়; চলতি সপ্তাহে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৩৫০ টাকা। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০২ টাকা।

কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, শশার দাম কিছুটা বেড়েছে; গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এছাড়া কিছু সবজির দাম কমেছে, কিছু রয়েছে স্থিতিশীল।

৭০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, ফুলকপি ৪০ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়, সিম ১০০ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায় ও মুলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, লাল টমেটো ৮০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া সামনের কয়েক দিনের মধ্যে যোগান বাড়লে শীতকালীন সবজির দাম আরো কমবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন কৃষি মার্কেটের কালাম মিয়াসহ একাধিক সবজি বিক্রেতা।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৫৫০ টাকায়। প্রকারভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৮০ টাকায়, কাতল প্রকারভেদে ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চিংড়ি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পুঁটি ৪০০ টাকায় এবং শিং ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে।

গরুর মাংস ৪২০ টাকায়, খাসি ৬০০-৬২০ টাকায়, বকরি ৫৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০, পাকিস্তানি কর্ক ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় ও ব্রয়লার মুরগি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।