মেইন ম্যেনু

‘মহাকাশের তারার মতো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো’

জীবনের নয় দশক পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ফিদেল কাস্ত্রো। সমগ্র বিশ্ব জুড়েই বেশ জনপ্রিয় ছিলেন এই রাজনীতিবিদ। কিউবার প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপ্রধানের প্রয়াণে স্বভাবতই শোকের ছায়া নেমে এসেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

কিউবার স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া ফিদেল কাস্ত্রোর বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড শুধু মাত্র কিউবা বা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ৩৪ বছরের বাম শাসনাধীন থাকা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন ফিদেল। সাতের দশকে গঙ্গাপারের শহর কলকাতাতেও এসেছিলেন তিনি। যদিও তার আগে ঘুরে গিয়েছেন ফিদেল সহযোদ্ধা চে গোভারা। সাতের দশকে যখন বামপন্থী আন্দোলনে উত্তাল কলকাতা, তখন এসেছিলেন কিউবার রাষ্ট্রপ্রধান ফিদেল কাস্ত্রো। তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল কিংবদন্তী সিপিএম নেতা জ্যোতি বসুর। সেই সময় দমদম বিমানবন্দরে রাজ্যের বামপন্থীদের তরফ থেকে ফিদেলকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন তৎকালীন তরুণ বামপন্থী নেতা নেপালদেব ভট্টাচার্য্য। তাঁর কথায়, “যখন বইয়ের পাতায় লেনিনের কথা পড়ছি, সেই সময় মহাকাশের তারার মতো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো। আমার কৈশোর এবং যৌবনকালের প্রারম্ভে দু’জনের আদর্শ মেনে বিপ্লব করেছি। একজন হলেন হো চি মিন এবং অপর জন ফিদেল কাস্ত্রো।” ১৯৫০ সালের পরবর্তী সময়ে ফিদেলের মতো যুগোপযোগী রাজনীতিবিদ বিশ্বে জন্মায়নি বলেও জানিয়েছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা নেপালদেব ভট্টাচার্য্য।

শনিবার হাভানা থেকে ফিদেলের প্রয়াণ সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই গভীর শোক প্রকাশ করে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “একটা যুগের শেষ হলো। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গেল একটা বৈপ্লবিক অধ্যায়। সমসাময়িক দুনিয়ায় ফিদেল কাস্ত্রোর মতো বৈপ্লবিক রোম্যান্টিসিজম কোনও রাজনীতিবিদের ছিল না। তাঁর এই যোগ্যতা থাকার কারণেই সমুদ্রের মাঝে ছোট্ট একটা দেশ সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হয়েছিল।” আমেরিকার অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক অবরোধের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে এনে বিশ্বকে ফিদেল কাস্ত্রো যে চমক দেখিয়েছিলেন তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন যাদবপুরের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজনবাবু আরও বলেছেন, “বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে ভবিষ্যতে ফিদেল কাস্ত্রোর স্লোগানটিই বাস্তবায়িত হবে। হয় সমাজতন্ত্র, নয় মৃত্যু।” সমসাময়িক কালের ইতিহাসের একটি স্তম্ভ পড়ে গেল বলে জানিয়েছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা ও ব্যারাকপুরের টানা ছয় বারের সাংসদ তড়িৎ বরণ তোপদার।

ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে স্মৃতি আছন্ন হয়ে ১৯৭৮ সালের হাভানায় ফিরে গিয়েছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর। নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “আমার স্মৃতি আচ্ছন্ন হয়ে আছে ১৯৭৮ সালের হাভানায়। যুব উৎসবের শেষ দিনের উৎসব লেনিন পার্কে।আমরা কয়েকজন হাঁটছিলাম পার্কের মধ্যেকার একটা রাস্তা দিয়ে। রাস্তার পাশে বৃষ্টিভেজা সামান্য কাদামাখা মাটি। হঠাৎ পিছন থেকে একটা জিপ ধেয়ে আসার শব্দ আর কলরব “ফিদেল ফিদেল”। আমাদের টপকে জিপ গিয়ে দাঁড়ালো একটু দূরে। আমি আর সোমেন মিত্র কাদার মধ্য দিয়ে ছুটলাম। তারপর যা ঘটল –অকল্পনীয়। দু- তিন জন তার হাত জডিয়ে ধরতে পারলাম। আমি আর সোমেন মিত্র। তোমার হাত সেই ৭৮ সাল থেকে এখনও জড়িয়ে আছি কমরেড। এ হাত এ তো শুধু তোমার হাত নয়। এ হল রক্তপতাকা।”

সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ কিউবার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রয়াণের বিষয়ে বলেছেন, “সমগ্র বিশ্বের সংগ্রামী মানুষ ভরসা করার মতো একজন প্রকৃত বন্ধুকে হারালো। কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ ফিদেলের মৃত্যুতে একটা গানের লাইন মনে পড়ছে, ‘জিনা ইসিকা নাম হ্যায়’”। ফিদেল কাস্ত্রোর বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডকে সঙ্গে নিয়েই বামপন্থীরা এগিয়ে চলবে বলে মন্তব্য করেছেন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ জয়ন্ত রায়। তাঁর কথায়, “ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে আমরা সকল বামপন্থীরা মর্মাহত। তাঁর কর্মকাণ্ডকে হাতিয়ার করেই আমরা এগিয়ে চলব।”