মেইন ম্যেনু

মাত্রাতিরিক্ত যৌনমিলনের চেয়ে বেশি বিপদ যদি এই ভয়ানক কাজটি করেন

আপনার কী একের বেশি সঙ্গী রয়েছে? তা হলে এখনই সাবধান হোন। এই অভ্যেস কিন্তু আপনাকে ঠেলে দিতে পারে মারণরোগ ক্যানসারের দিকে। সম্প্রতি ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যানসার’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণায় ঠিক এমনটাই ধরা পড়েছে। গবেষণায় জানানো হয়েছে, কোনও পুরুষের যদি সাতজনের বেশি সঙ্গিনী থাকে তবে তার প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। পাশাপাশি গবেষণায় এ-ও বলা হয়েছে যে সমস্ত পুরুষ যৌনসক্রিয়, তাঁদেরও কিন্তু একইভাবে ভয়ের কারণ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যানসার কাউন্সিলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ভিশালিনী নায়ার-স্যালিকর সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। ওই গবেষণাপত্রে তিনি জানিয়েছেন— “কোনও পুরুষের সঙ্গিনীর সংখ্যা বেশি হলে, তাঁর উত্তেজনার পরিমাণও অনেক বেশি হয়। ফলে প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনাও বেড়ে যায় অনেকটাই। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি যত কম বয়সে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হবেন, তাঁর ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা তত বেশি।”

যৌন ক্রিয়াকলাপ এবং বিপাক, দেহের অ্যান্টিজেনের কার্যকলাপের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পুরুষদের সেক্স হরমোন সেই সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেয়। গবেষকদের মতে, মূলত যৌন ক্রিয়াকলাপের ফলে দেহে হরমোনের যে কার্যকলাপের পরিবর্তন হয়, তার ফলেই এই ধরনের ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

অন্যদিকে, আরও বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে ওই গবেষণাপত্রে। সেখানে বলা হয়েছে, বাবার প্রস্টেট ক্যানসার থাকলে সন্তানের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বেশি থাকে অন্যদের চাইতে। মাত্রারিক্ত ওজন বা ওবেসিটিও কিন্তু প্রস্টেট ক্যানসারের কারণ হতে পারে। অবশ্য পুরুষের বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য অস্ত্রোপচার কিংবা লিঙ্গত্বকচ্ছেদন অথবা ইরেকটাইল ফাংশনের সঙ্গে প্রস্টেট ক্যানসারের কোনও সম্পর্ক নেই।
এই বিষয়ে স্যালিকর জানিয়েছেন, কোনও পুরুষ ৫০ বছরের বেশি বয়সে এই ধরনের রোগের শিকার হলে কিংবা অতীতে পরিবারের কোনও সদস্যের এই ক্যানসার থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিৎ।

অবশ্য, যৌন কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধের কথা বলেননি স্যালিকর। কেননা, এই বিষয়টিতে এখনও বেশ কিছু ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।