মেইন ম্যেনু

মাত্র ১টি অভ্যাস শুধরে দেবে শিশুর দূর্ব্যবহার

আজকের দিনে একটি শিশুকে মনের মত করে গড়ে তোলা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০/৩০ বছর আগেও বিষয়টি এত জটিল ছিল না। কিন্তু এখন প্রতিযোগিতা আমাদের শিশুদের পরিণত করে যন্ত্রে, প্রযুক্তি বাড়ায় মানসিক দূরত্ব। ফলাফলে শিশুদের মাঝে সেই শ্রদ্ধাবোধ, ভক্তি গড়ে ওঠে না। বড় হতে হতে তারা কেমন যেন আত্মকেন্দ্রিক মানুষে পরিণত হয়।

শিশুর আচরণগত সমস্যা, বেয়াদবি, অশ্রদ্ধা এগুলো বদলে ফেলতে পারি আমরা বাবা-মায়েরাই। কিভাবে? গবেষণা বলছে মাত্র ১টি অভ্যাস বদলে দিতে পারে আপনার শিশুকে। শিশুর শিষ্ঠাচারকে সঠিক ধারায় নিয়ে আসতে প্রতিদিন পুরো পরিবার একসাথে রাতের খাবার গ্রহণ করুন। হ্যাঁ, মাত্র এই একটি অভ্যাসের চর্চা করুন। আপনি ভাবছেন, এটা কীভাবে সম্ভব? শিশুর ব্যবহার, আচার-আচরণের সাথে এর কী সম্পর্ক? জেনে নিন কিভাবে এই অভ্যাসটি কার্যকর হতে পারে আপনার শিশুর জন্য-

সাধারণ খাবার তৈরি করুন
খাবার কতটা চমকপ্রদ হল সেদিকে কম খেয়াল করুন। বরং খেয়াল করুন শিশুর দিকে। সাধারণ খাবার রান্না করুন। খাবার টেবিলে সবাই সেই খাবার ভাগ করে খান। এটা শিশুর মাঝে একাত্মতা তৈরি করবে। লোভনীয় খাবারের পরিবর্তে শুরু থেকেই তার মাঝে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আগ্রহ গড়ে তুলুন।

ডাইনিং টেবিলে কোন ইলেক্ট্রনিক পণ্য নয়
রাতের এই খাবার সময়টুকু শুধু এবং শুধু নিজের পরিবারের জন্য বরাদ্দ করুন। খাবার টেবিলে কোন মোবাইল বা ল্যাপটপ নিয়ে বসবেন না। অনেকেই কাজ আছে বলে খেতে খেতেই কাজ করতে থাকেন। এটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। একই সাথে আপনি যেখানে শিশুকে নিয়মের আওতায় আনতে চান আবার নিজেই নিয়ম মানেন না তখন তা শিশুর মাঝেও বিরোধিতা তৈরি করে।

সবাই হাতে হাতে কাজ করুন
শুধু খাবার তৈরি করবে আর কাজের লোক টেবিলে পৌঁছে দেবে এই নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসুন। সবাই মিলে করুন প্রতিটি কাজ। নিজেদের মাঝে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলুন। শিশু যখন পুরো পরিবারকে একটি টিমের মত কাজ করতে দেখবে তখন সেও এই টিমের একজন হিসেবে কাজে সাহায্য করবে। এতে বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

গল্প করুন
সারাদিন কে কি করলেন, কোথায় গেলেন এসব গল্প করতে করতে খাবার গ্রহণ করুন। শিশুকেও উৎসাহিত করুন নিজের সারাদিনের কাজকর্মের কথা বলতে। জবাবদিহি নয়, গল্পের ছলে জেনে নিন তার সব খবর। সবাই যখন নিজের কথা বলছে তখন সেও বলতে আপত্তি করবে না। এভাবে একটা বন্ধুত্বের পরিবেশ গড়ে উঠবে আপনার পরিবারে। পরিবার নিয়ে শিশুর মাঝে তৈরি হবে গর্ব।

কোন পরিবারই একদম পারফেক্ট নয়। তবে সব পরিবারই একটা অনন্য ভালবাসার বন্ধনে জড়িয়ে রাখে সন্তানদের। ছোট ছোট ভুলে তৈরি হওয়া বিচ্ছিন্নতাগুলো মুছে দিন যত্নে। সময় কাটান একসাথে। আর এজন্য রাতের খাবারের সময়ের চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে?