মেইন ম্যেনু

মাথাভর্তি চুল চাইলে যা করতে পারেন

1477167053

কম-বেশি মাথার চুল সবারই পড়ে, যা স্বাভাবিক৷ কিন্তু চুল পড়ে মাথা যদি ধীরে ধীরে মাথা খালি হয়ে যায়, তখন সেটা দুঃখ ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ তাই চুল পড়া রোধে বা চুলকে বাঁচাতে কী করবেন জেনে নিন৷

কেন চুল পড়ে? হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে যে, শরীরে প্রোটিন ও ভিটামিনের অভাব থেকে চুল পড়তে পারে৷ কিংবা থাইরয়েডের কোনো সমস্যা, মানসিক চাপ, ডায়েটিং, হরমোনের তারতম্য বা কিছু কিছু ওষুধ সেবনও চুল পড়ার কারণ হতে পারে৷

চুল পড়া বন্ধে যা খাবেন: মাছ, মাংস, ডিম, বাদাম, ডাল ইত্যাদি প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখবেন প্রতিদিনের খাবারের তলিকায়৷ প্রোটিনের অভাব হলে শরীরের মতো চুলের স্বস্থ্যেও কিন্তু বড় ক্ষতি হয়ে থাকে৷

চুলে গরম পানি ব্যবহার করবেন না: গরম পানি চুলকে রুক্ষ ও নষ্ট করে৷ তাই কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে, সবশেষে ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলবেন৷ এছাড়া মাথা ঘষে ঘষে মুছবেন না৷ এতে চুলে টান পড়ে এবং চুল ছিড়ে যায়৷

প্রাকৃতিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার: যারা চুলে অতিরিক্ত শ্যাম্পু করেন, তারা কোনোভবেই রাসায়নিক পদার্থ দেয়া শ্যম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না৷ কন্ডিশনারে ওয়াক্স এবং সিলিকন জাতীয় উপাদান থাকে৷ তাই কন্ডিশনার চুলের গোড়ায় না দিয়ে শুধু চুলের ওপর দেবেন৷ কন্ডিশনার চুলের গোড়াকে তৈলাক্ত করে, ফলে মাথার ত্বকে বাতাস ঢুকতে বিঘ্ন ঘটে ৷

স্ট্রেইটনার: কোকড়া বা এলোমেলো চুল সোজা করতে শুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও স্ট্রেইটনার বা চুলের ইস্তিরি ব্যবহার করেন৷ গরম স্ট্রেইনার যে চুল নষ্ট করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, বিশেষ করে এর নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়তে পারে৷

হেয়ার ড্রায়ার: চুল ধোওয়ার পর শুকিয়ে ফেলাই চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তবে গরম বাতাসে নয়৷ হেয়ার ড্রায়ারের ঠান্ডা বাতাসে চুল শুকালে চুল পড়া এবং ভাঙার সম্ভাবনা কমে৷

জিঙ্ক এবং বায়োটিনযুক্ত খাবার: যাদের মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণে চুল পড়ে, তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে জিঙ্ক এবং বায়োটিনযুক্ত বা ভিটামিন বি-৬ যুক্ত খাবার খাবেন৷ তবে সেটা কখনোই ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের বেশি না হয়৷ আর হ্যাঁ, মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন এবং হাসিখুসি থাকুন৷ এই পরামর্শ দিয়েছেন জার্মান ত্বক বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টফ লিবিশ৷

চুলে রঙের কম ব্যবহার: আগে পাকা চুলকে ঢাকতেই মূলত চুলে রং ব্যবহার করা হতো৷ কিন্তু এ যুগের ছেলে-মেয়েরা মূলত ফ্যাশন করতেই খুব কম বয়স থেকে চুলে নানারকম রঙের ব্যবহার করে৷ চুলের রঙে থাকা রাসায়নিক পদার্থ চুল রুক্ষ করে, এতে চুল ভেঙে যায় এবং পড়তে শুরু করে৷ তাই যতটা সম্ভব চুল কম ‘ডাই’ করবেন৷

পেট পরিষ্কার রাখুন: পেট বা অন্ত্র এবং চুলের গোড়া একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ অর্থাৎ পেটের সমস্যাও চুলে প্রভাব ফেলে৷ কাজেই চুলকে বাঁচাতে পেট পরিষ্কার রাখুন৷ তাছাড়া সুস্থ, সুন্দর চুলের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করুন৷

খুসকিকে দূরে রাখুন: চুল পরিস্কার রাখতে হবে চুলের গোড়ায় যাতে তৈলাক্ত খুসকি না হয়, কারণ খুসকি হলে মাথা চুলকায় এবং তার ফলেও চুল পড়ে৷

টাক পড়া: ছেলেদের টাক পড়ার কারণ যে খাওয়া-দাওয়া আর চুলের যত্ন না নেয়া নয় সেটা অনেকেরই জানা৷ সাধারণত মাথায় টাক পড়ে বংশোগত কারণে৷ তবে চুলের সঠিক যত্ন ও এ ব্যাপারে সতর্ক হলে টাক পড়া কিছুটা দীর্ঘায়িত করা যায়।-ডিডব্লিউ