মেইন ম্যেনু

মাশরাফিদের টানা পঞ্চম হার

boss

একটি জয়ের জন্য মরিয়া হয়েই ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দলটিই কি-না এবার নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। আগের চার ম্যাচে টানা হেরে এমনিতেই ব্যাকফুটে ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। শুক্রবার প্রথম জয়ের সন্ধানে মাঠে নামলেও মাথা নিচু করেই মাঠ ছাড়তে হয় কুমিল্লাকে। রংপুর রাইডার্সের কাছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় মাশরাফির দল।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুর রাইডার্সের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে সর্বসাকূল্যে ১২২ রান করতে সক্ষম হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে রংপুর।

টানা দুই ম্যাচ জেতার পরই তৃতীয় ম্যাচে হারের মুখ দেখে রংপুর রাইডার্স। তবে এরপর টানা দুটি ম্যাচ জিতে শেষ চারে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তুললো উত্তরবঙ্গের দলটি; পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বর স্থান আরো মজবুত করলো নাঈম ইসলামের দল। অন্যদিকে টানা পাঁচ হারে শেষ চারের স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল মাশরাফির কুমিল্লার।

রংপুরকে জেতাতে দারুণ অবদান রাখেন মোহাম্মদ শাহজাদ ও মোহাম্মদ মিঠুন। শাহজাদ ৪৯ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে মিঠুনও অপরাজিত থাকেন ৩৯ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ৪৫ রানে। এছাড়া সৌম্য ১৫ বলে ২২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হন।

কুমিল্লার হয়ে একমাত্র উইকেটটি নেন মাশরাফি মর্তুজা।

জয়ের জন্য ১২৩ রানের মাঝারি মানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই ঝড় তুলেন রংপুরের দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও সৌম্য সরকার। নাবিল সামাদের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে চার দিয়ে শুরু করেন সৌম্য। পরের বলে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে ডিপ মিড-উইকেট দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরের দর্শকদের উল্লাসে ভাসান এই বাঁহাতি ওপেনার।

প্রথম ওভারে ১৩ রান নেয়ার পর দ্বিতীয় ওভারে একটি করে চার মারেন শাহজাদ ও সৌম্য। তাতে করে দুই ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৪ রান তুলে নেয় রংপুর। তৃতীয় ওভারে সোহেল তানভির আঁটসাট বোলিং করে সৌম্য ও শাহজাদকে চাপের মুখে ফেলেন।

এর সুবিধা নেন মাশরাফি। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে সৌম্যকে আউট করেন তিনি। মাশরাফিকে তুলে মারতে গিয়ে মিড-উইকেটে রশিদ খানকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার ওপেনার।

সৌম্যকে হারিয়ে অনেকটাই খোলসবন্দী হয়ে যায় রংপুর। তবে মাশরাফির করা ষষ্ঠ ওভারে একটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে কুমিল্লার মনোযোগ ভেঙে দেন শাহজাদ। এসময় অন্য প্রান্তে দারুণ খেলতে থাকেন মোহাম্মদ মিঠুন। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনের ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ বোলাররা দিশেহারা হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ৯৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে ১৮ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের জয় এনে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান। এরমধ্যে চলতি টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন শাহজাদ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দেখে-শুনেই খেলেছিলেন কুমিল্লার দুই ওপেনার লিটন ও ইমরুল। তবে সোহাগ গাজীর করা তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। ফলে হোঁচট খায় প্রথম জয়ের সন্ধানে থাকা কুমিল্লা।

শুরুতেই উইকেট হারানোর পর বেশ সাবধানী হয়ে ওঠেন শেহজাদ ও লিটন। তাদের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ১৭ রান করতে সক্ষম হয় কুমিল্লা। রুবেল হোসেনের করা ষষ্ঠ ওভার থেকে চার রান নেয়ার পথে শেষ বলে লিটন রানআউট হয়ে গেলে হতশ্রী হয়ে পড়ে মাশরাফিদের ইনিংস।

১০ ওভারে ২ উইকেটে ৪৩ রান করা কুমিল্লা ৫০ রান স্পর্শ করতে ১১ ওভার ২ বল খেলে ফেলে। ১৩ ওভার শেষেও অবস্থার উন্নতি হয়নি; তখন মাশরাফিদের সংগ্রহ ছিল ৭০ রান। ১৫ ওভার শেষে সেটি দাঁড়ায় ৭৭ রানে; ১৬ ওভার শেষে ৮৪-তে। এর মধ্যে চলতি আসরে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন শেহজাদ।

এর পর শেহজাদের কাছ থেকে মারমুখী ব্যাটিং দেখার অপেক্ষায় ছিল কুমিল্লার সমর্থকরা। তবে আনোয়ার আলির করা ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তুলে মারতে গিয়ে আফ্রিদির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই পাকিস্তানি রিক্রুট। ফলে হতাশা নেমে আসে কুমিল্লা শিবিরে। শেষ দিকে স্যামুয়েলস খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসলে ১২২ রান করতে সক্ষম হয় কুমিল্লা।

রংপুরের হয়ে রুবেল দুটি এবং একটি করে উইকেট নেন সোহাগ ও আনোয়ার। আফ্রিদি কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ১৮ রান দেন। সানি দেন ৩ ওভারে ১৯ রান।

নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে আগামীকাল শনিবার রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে প্রথম জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে মাশরাফির কুমিল্লা। অন্যদিকে আগামী মঙ্গলবার রংপুর খেলবে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে।