মেইন ম্যেনু

মায়ের শোকে হাঁসছানার আত্মহত্যা

মায়ের মৃত্যুশোক সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে এক রাজহাঁসের ছানা। তার আত্মহত্যার বিরল দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করতে সক্ষম হয়েছেন চীনা আলোকচিত্রী হাইকার ইয়ান ইয়ান হাসিয়াও। সম্প্রতি চীনের হেনান প্রদেশের সানমেক্সিয়া হ্রদে প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি তুলতে গিয়েছিলেন হাসিয়াও। তিনি দেখেন, হৃদের জলে ভাসছে একটা মৃত রাজহাঁস। পাশেই ছটফট করছিল একটি কচি রাজহাঁস। এর অভিব্যক্তি দেখেই তিনি বুঝতে পারেন, বাচ্চাটি ওই মৃত হাঁসের। তিনি বলেন, ‘আমি দেখছিলাম হাঁসের বাচ্চাটি অনবরত পানিতে তার ডানা দুটি ঝাপটাচ্ছে। পাশেই ভাসছিল বুড়ো হাঁসটি। সে যে মরে গেছে এটা আমি বুঝতে পারছিলাম। সম্ভবত ঠাণ্ডা বা বয়স-জনিত কারণে সে মারা গিয়েছিল।’ স্বভাবতই মায়ের মৃত্যুতে খুবই কষ্ট পাচ্ছিল ছানাটি। সে অনবরত পানিতে নিজের ডানা ঝাঁটাচ্ছিল আর প্যাঁক প্যাক করছিল। হয়ত এভাবেই সে নিজের শোক প্রকাশ করছিল। কাঁদতে কাঁদতে একসময় পানিতে মাথা ডুবিয়ে দেয় এবং মারা যায়। আপনজনের বিরহ ব্যথা সইতে না পেরে এভাবেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে। এ সম্পর্কে আলোকচিত্রী ইয়ান হাসিয়াও বলেছেন, ‘আমি দেখছিলাম বাচ্চাটি পানিতে কেবল পাখা নাড়াচ্ছে। ভাবছিলাম, এক সময় হয়ত ওর শোক কমবে, শান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু একসময় দেখলাম, ও পানির মধ্যে নিজের মাথাটা ডুবিয়ে দিল। আর ওঠে না। কয়েক মিনিট পর দেখলাম, বাচ্চাটি মরে গেছে।’ অথচ ছবিগুলো তোলার সময়ও তিনি জানতেন না, তিনি শিশুটির আত্মহত্যার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছেন! তবে পশু পাখিদের আত্মহত্যা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। দুঃখ বা হতাশা থেকে পশু পাখিরাও যে মানুষের মতই আত্মহত্যা করতে পারে এটা অনেকে আমলেই নিতে চান না। বছরের পর বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে বিতর্ক করে যাচ্ছেন। পশুদের আত্মহত্যা খানিকটা অস্বাভাবিক হলেও বিরল নয়। ১৮৫৫ সালে লন্ডন নিউজ পত্রিকায় একটি কুকুরের আত্মহত্যার খবর ছাপা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, বেশ কয়েকবার নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এক কুকুর। অবশেষে সে সফল হয় মানে জলে ডুবে মারা যায়। তবে হাঁসদের জন্য আত্মহত্যা কোনো নতুন ঘটনা নয়। সঙ্গীর বিচ্ছেদ সইতে না পেরে এর আগেও বহু পাতিহাঁসকে আত্মহত্যা করতে দেখা গেছে।