মেইন ম্যেনু

মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা খুন

মানিকগঞ্জে বেলাল হোসেন নামে এক বীমা কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, হরিরামপুর উপজেলার মাচাইন বাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির স্থানীয় ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন। এসময় রাস্তায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ খালের পানিতে ফেলে রাখে।

তার ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহ সনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করছে। বিল্লালের মা, দুই মেয়ে, স্ত্রী আর স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বখাটেরাই বিল্লালকে হত্যা করেছে এমন কথাই শুনা যাচ্ছে সবার মুখে মুখে।

বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আফরোজা বেগম জানান, তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে শাবনূর এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। একই গ্রামের ইকলাছ মাতবরের বখাটে ছেলে সুমন (১৮) মেয়েকে রাস্তা-ঘাটে উত্ত্যক্ত করতো। সুমনের বন্ধু হাবিব ও আশিকও মোটরসাইকেল দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে শাবনূরের গতিরোধ করে উত্ত্যক্ত করতো। কয়েকদিন আগে সুমনের বাবার কাছে এ বিষয়ে নালিশ দেয়া হয়। কিন্তু তারা বিচার না করে উল্টো ছেলের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

কিন্তু মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সুমন। দুইদিন আগে বাড়িতে এসে সুমন ও তার সহযোগীরা মেয়েকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার হুমকি দিয়ে যায়। কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় বখাটেরা।

আফরোজা বেগমের অভিযোগ, সুমন, হাবিব ও আশিকই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া তার স্বামীর কোনো শত্রু ছিলো না। তিনি স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন।

হরিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত সুমনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর থেকে আরিফ নামে তার এক বন্ধুকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিল্লাল হোসেনের মাথা ও মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।