মেইন ম্যেনু

মেয়েরা দুই পা ফাঁক করে মোটরসাইকেলে বসলেই বিপদ!

motor-cycle

মেয়েরা দুই পা ফাঁক করে অর্থ্যাৎ দুই পা মোটরসাইকেলের দুই পাশে রেখে বসতে পারবেন না! তাদেরকে বসতে হবে এক পাশে পা রেখে। শরিয়া আইনের বর্ণনা দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আচে প্রদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

গেল সপ্তাহে আচে প্রদেশে এক নতুন নিয়ম চালু হয়। তবে এই নিয়ম চালুর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো। কিন্তু প্রশাসন তাতে কান দিচ্ছে না।

আচে প্রদেশের লুকসুমাও নগরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দসনি ইউসার এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছি৷ এখানে এটার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ নেই। আচেতে কোন সমালোচনা শোনা যাচ্ছে না।’

মেয়েদের মোটরসাইকেলে চড়ার ব্যাটম্যান কিংবা টাইটানিক স্টাইল (ফাইল কার্টুন)

মোটরসাইকেলে বিধিসম্মতভাবে কীভাবে বসতে হবে, তা সাধারণ মানুষকে জানাতে ইতিমধ্যে উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন ইউসার। তিনি জানান, লুকসুমাও`য়ে পঞ্চাশটি ব্যানার টানানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি অফিসে এবং গ্রামে এই আইনের বিষয়ে লিফলেট বিলি করা হয়েছে।

শহরের মেয়র সুয়াইদি ইয়াহিয়া, যিনি এই আইনের প্রস্তাব করেছিলেন, জনসমক্ষে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ‘নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই আইন চালু করা হয়নি। বরং আচেতে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটা করা হয়েছে।’

মেয়েদের এক পাশে পা দিয়ে বসার পক্ষে আরেকটি যুক্তি দেখেয়েছেন ইয়াহিয়া। তার কথায়, ‘মেয়েরা দুই পা ফাঁক করে পেছনে বসলে নাকি মোটর সাইকেলের পুরুষ চালকরা উত্তেজিত হয়। তবে মেয়েরা যখন নিজেরা মোটর সাইকেল চালাবেন তখন তারা দুপা ফাঁক করে সেটিতে বসতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ইসলামি পোশাক পরতে হবে তাদেরকে, একথাও বলেছেন ইয়াহিয়া।’

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে আচেতে শরিয়া আইনের একটি সংস্করণ চালু করা হয়৷ ইন্দোনেশিয়ার কোন প্রদেশে এই আইন চালুর ঘটনা এই প্রথম৷ সেই থেকে অবশ্য জনসাধারণের নৈতিক দায়িত্ব বিষয়ক বিভিন্ন উপবিধি প্রকাশ করছে প্রদেশটির কর্তৃপক্ষ৷

তবে সমালোচকরা বলছে, শরিয়া আইনের প্রয়োগ বৈষম্যমূলক৷ শুধুমাত্র নারী এবং যুব সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিভিন্ন রকম নিয়ম জারি করা হচ্ছে৷ এগুলোর মধ্যে জনসমক্ষে কি রকম আচরণ করতে হবে কিংবা কী ধরনের পোশাক পরতে হবে তাও আছে৷

অনেকে মনে করছেন, ইন্দোনেশিয়ার ভাবাদর্শের সঙ্গে এসব নিয়ম মানানসই নয়।

অনেকে মনে করছেন, ইন্দোনেশিয়ার ভাবাদর্শের সঙ্গে এসব নিয়ম মানানসই নয়৷ বরং এটা এক উল্টো পথে যাত্রা করার মতো ব্যাপার৷ জাকার্তায় অবস্থানরত নারী অ্যাক্টিভিস্ট তুঙ্গাল প্রয়েস্ত্রি ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসের দুই নারী যোদ্ধার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘ন`কাক ধিয়েন এবং লাকসামানা কেউমালাহায়াতি ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করেছিলেন। তারা কি তখন ঘোড়ার এক পাশে পা দিয়ে বসেছিলেন? এরকম ভাবাটাও অবান্তর।’

প্রয়েস্ত্রি বলেন, ‘আচিতে শরীয়া আইনের ভিত্তিতে জারি করা প্রতিটি উপবিধিতে নারীর শরীরকে রাজনৈতিক লড়াইয়ে ক্ষেত্রে হিসেবে ধরা হচ্ছে। নারী হচ্ছে সহজ লক্ষ্যবস্তু৷ কেননা, যখন অ্যাক্টিভিস্টরা এসবের প্রতিবাদ করবে, তখনই তারা মুসলিম বা শরিয়া বিরোধী হিসেবে বিবেচিত হবে।’

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়াতে শরিয়া আইন চালু থাকলেও সেখানে মেয়েদের পা ফাঁক করে মোটর সাইকেলে বসার ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। বরং মেয়েরা একদিকে পা দিয়ে বসাটা সেখানে নিষিদ্ধ৷ একপাশে পা দিয়ে বসায় অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে সেখানে। কেননা, এভাবে বসলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।