মেইন ম্যেনু

মোদিকে যা বললেন ঐশ্বরিয়া

গত ৩ দিন যাবত ১ হাজার ও ৫০০ রুপির নোট নিয়ে বেশ সঙ্কটে রয়েছেন ভারতের মানুষ। অবৈধ অর্থের প্রবাহ ও প্রভাব বন্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি হঠাৎ করেই এই দুটি নোট বাতিলের ঘোষণা দেন। আর এরপর থেকেই দেশটির ব্যাংক ও এটিএম বুথগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়।

নোট পরিবর্তনের জেরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। জনমিছিলের চাপ আর বিকল্প নোটের অভাবে ব্যাংকগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। যদিও এই চাপ সাময়িক বলেই মত প্রধানমন্ত্রী এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। তবে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেনা বিরোধী দল। এমনকি এ ইস্যুতে মুখ খুলেছেন বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন।

সাধারণত মন্তব্যের ব্যাপারে ঐশ্বরিয়া বেশ সংযত। তবে অর্থ বদলে জনগণের ভোগান্তির বাস্তব চিত্র তাকে বাধ্য করেছে মন্তব্য করতে। মন্তব্য করলেও অবশ্য ঐশ্বরিয়া সরাসরি তা নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যেই করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া শনিবার বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে তার এই পদক্ষেপ সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবর্তন সব সময় আরামদায়ক হয় না। যদি সবাই কল্যাণের বিষয়টিকে বড় করে দেখেন তবে সাময়িক অসুবিধা বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে মনে হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সিদ্ধান্তে অনেকে সাধুবাদ জানালেও ভোগান্তি কি শুধুই সাধারণ মানুষের কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেননা গত ক’দিনে নোট পরিবর্তনের কাতারে বিত্তবান শ্রেণির দেখা পাওয়া যায়নি। ফলে দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর মতো অনেকেরই সন্দেহ, কালো টাকার মালিকেরা কি অর্থ বদলের বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছেন?

কেননা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগে থেকেই অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্ণা দেন বিত্তশালীরা। বিদেশি নোটে পরিবর্তনই শুধু নয়, স্বর্ণের দোকানগুলোতেও ছিল তাদের যাতায়াত। নোট বাতিলের ঘোষণার আগে-পরে অনেক বিত্তবানরাই অর্থ পাল্টে নিয়েছেন।

ভারতের দুর্নীতি প্রতিরোধে গেল মঙ্গলবার হঠাৎ করেই ৫শ’ ও হাজার রুপির নোট বাতিলের ঘোষণা দেন নরেন্দ্র মোদি। যা বুধবার থেকেই কার্যকর হয়। নতুন ৫শ’ ও ২ হাজার রুপির নোট বাজারে ছাড়ার কথা থাকলেও তা এখনও সবার হাতে এসে পৌঁছেনি।

নরেন্দ্র মোদির এমন সিদ্ধান্তে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীদল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এমনকি ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র শরীক দল শিব সেনাও। তাদের মতে, এই উদ্যোগ জনদুর্ভোগই শুধু বৃদ্ধি করবে।

এদিকে, বাতিলকৃত নোট বদলের জন্য ৫০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। এই সময়ের মধ্যেই দেশটির ব্যাংকগুলো থেকে ৫শ’ ও ১ হাজার রুপির নোট বদলে নিতে পারবেন সবাই।