মেইন ম্যেনু

যেদিন বিয়ে করব, আমিও ঝগড়াঝাঁটি নিয়েই থাকব : অরুণিমা

photo-1480079668

‘খামখেয়ালিপনাটা আমার একদম চলে গেছে। আমি অনেক ছোটবেলায় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম। সেই সময় সেই বয়সে মানুষ কারো কথা শোনে না, নিজের খেয়ালে চলে। আমিও সেই সময় অনেকটাই মুডি ছিলাম। যেটা আমার জীবনে মাইনাস পয়েন্ট ছিল। অবশ্য এখন আমার সেই ফেজটা চলে গেছে। এখন আর আমি মোটেই তেমন নেই’—সংবাদমাধ্যমের কাছে এভাবেই বদলে যাওয়া নিজেকে ধরা দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অরুণিমা ঘোষ।

বললেন, ‘আসলে আমি এখন অনেক ভেবেচিন্তে ছবি করি। নিজেরা হান্ড্রেড পার্সেন্ট দিয়ে ছবি করলাম অথচ সেই ছবি দর্শক দেখল না, তেমন ছবিতে কাজ করতে চাই না। এ ছাড়া আমি চাই আরো নতুন নতুন প্রযোজক আসুক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। শুধু অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম দিয়েই হবে না, দর্শককে ছবিটা দেখতে হবে এবং দেখাতে হবে। সে জন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযোজকদেরও ইন্ডাস্ট্রিতে প্রয়োজন বলেই মনে হয় আমার।’

নিজেকে আজ কিছুটা বদলে ফেললেও গোছানো জীবন-যাপনের বেড়াজালে আজও আটকে নন অরুণিমা। নিজেই বললেন, ‘আমি কোনোদিনই খুব একটা গোছানো গোছের মেয়ে নই। দরকার হলে মায়ের কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে চালিয়ে দেই। বাবা তো কয়েকদিন আগেই কিছু টাকা দিয়ে গেল আমাকে। এভাবেই দিব্যি দিন চলে যাচ্ছে।’ তবে এখন পারিপার্শ্বিক নানা পরিস্থিতির চাপে নিজেকে অনেকটা বদলে নিয়েছেন বলেও জানালেন।

ব্যক্তিজীবনে একমাত্র স্টেডি সম্পর্কের ওপর বিশ্বাস রাখেন অরুণিমা। জানালেন, ‘এখন তো চারদিকে দেখছি মানুষের বিশ্বাস ভেঙে যাচ্ছে, অহরহ সম্পর্ক ভাঙছে। তবে আমি কিন্তু এখনো পুরোনো দিনের মূল্যবোধের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমি মনে করি একটা স্ট্রং বন্ডিং দরকার। সম্পর্কে তো ঝগড়াঝাঁটি হবেই। আবার সব ঠিক হয়েও যাবে। তবেই না বোঝা যাবে সম্পর্ক ঠিক আছে কি না। আমি যেদিন বিয়ে করব, আমিও ঝগড়াঝাঁটি নিয়েই থাকব। এবং আমার স্বামীর সঙ্গেই থাকব। আমি মনে করি, আমাদের মতো দেশে ফ্যামিলি বন্ডিংটা খুব জরুরি।’

একটা সময় অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে উচ্চারিত হতো অরুণিমার নাম। সেই প্রসঙ্গে রাখঢাক না রেখেই বললেন, ‘সেই সময়টা চলে গেছে। সেটা ২০০৬ সাল হবে। নাউ হি ইজ আ ম্যারেড ম্যান। আমার জীবনে ২০১৭ সালে আমি এমন কিছু ঘটাতে চাই, যাতে আর পুরোনো ওই প্রশ্নের মুখে না পড়তে হয়।’

ক্যারিয়ারের সিঁড়ি ভাঙার পথে উত্তরণের প্রশ্নে আরো অনেকটা দূর এগিয়ে যেতে চান অরুণিমা। বললেন, ‘যারা ভালো কাজ করছেন, আমি সব সময় তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে চাইব। আসলে আমার খিদেটা বিরাট।’