মেইন ম্যেনু

যে কাজগুলো করা যায় কেবল ছোটবেলার বন্ধুদের সাথেই

আমরা অনেকেই জানি আর মানি যে ছোটবেলার বন্ধুদের সাথে আর কারো কোন তুলনা হয়না। কথাটা আসলেও সত্যি! ছোটবেলায় মানুষের মন থাকে সহজ-সরল আর স্বার্থপরতাহীন। আর তাই তখনকার বন্ধুদের বন্ধত্ব পাওয়া যায় একেবারে মন থেকেই। তাদের ভালোবাসাটাও হয় একেবারে অকৃত্রিম আর নির্ভেজাল। কিন্তু বড় হয়ে যাবার সাথে সাথে নতুন সব বন্ধুত্বের ভিড়ে ছোটবেলার বন্ধুত্ব ঢাকা পড়ে যায়। নতুন বন্ধুদের খাতিরে অনেকটা সময় হয়তো ভুলেও যেতে হয় ছোটবেলার প্রিয় আর চেনা মুখগুলোকে। কিন্তু তারপরেও জীবনের এমন কিছু সময় আসে যখন প্রথমেই যার কথা মনে হয় সে হল সেই ছোট্টবেলাকার বন্ধু। এমন কিছু মুহূর্ত আর কথা থাকে যা কেবল মন খুলে বলা যায় বা শেয়ার করা যায় ছোটবেলার সেই ভালোবাসার মানুষগুলোর সাথেই।

“ভালোবাসি” বলার আগের মুহূর্ত
জীবনের এই ভীষন সুন্দর আর পবিত্র ব্যাপারটি আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে জানানোর আগেও কেবল একজন মানুষের সাথেই শেয়ার করতে পারেন আপনি। বাবা-মা, ভাই-বোন বা অন্য কোন রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়? না, সে মানুষটি হল আপনার ছোটবেলার বন্ধু।

গালি-গালাজ
প্রচন্ড রেগে আছেন আপনি অথবা খুব ভালো মুড আপনার? যেটাই হোক না কেন চোখ বুজে যে কোন নামে ডাকতে পারেন আপনি আপনার ছোটবেলার বন্ধুদের। গালি-গালাজও করতে পারেন। তুলনা করতে পারেন অদ্ভুত সব জিনিসে সাথেও। তারা তাতে একদমই কিছু মনে করবে না।

অপ্রয়োজনীয় কাজ
যে কোন ধরনের অযথা আর অপ্রয়োজনীয় কাজ কেবল আপনি করতে পারেন আপনার বন্ধুর সামনেই। থুথু ফেলা থেকে শুরু করে বাথরুম পর্যন্ত! নাক ডাকা শুরু করে ভীষন রকম কান্না পর্যন্ত! এসবকিছুই আপনি করতে পারেন আপনার বন্ধুর সাথে। কারন সে আপনাকে খুব ভালো করে জানে। আর আপনিও জানেন যে আপনাকে এসব কাজের জন্যে লজ্জা পেতে বা কোনরকম জবাবদিহি করতে হবেনা কখনো কারো কাছে। বিশেষত ছোটবেলার বন্ধুর কাছে তো নয়ই।

ভেঙে পড়ার মুহূর্ত
জীবনে একবারও প্রচন্ড কষ্টে ভেঙে পড়েনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। তবে কষ্টকর হলেও সত্যি যে জীবনের এই অত্যন্ত দরকারী সময়গুলোতেই কাউকে আপনি পাশে খুঁজে পাবেন না। তবে একটু ভালো করে খুঁজলেই দেখবেন আর কেউ না থাকুক আপনার অনেকদিন আগে ফেলে আসা বন্ধুগুলো আপনার পাশে ঠিকই দাঁড়িয়ে আছে। যে কোন কাজে অথবা কষ্টের মুহূর্তে চোখ বুজে আপনাকে সমর্থন করে যাবে আপনার ছোটবেলার বন্ধুরা। আর কিছু না পারলেও নিজেদের কাঁধ আর ভালোবাসার দুটো কথা ঠিকই আপনার জন্যে বাড়িয়ে দেবে তারা।

অসহায় অবস্থা
মাঝেমাঝেই মানুষের মন আর মস্তিষ্ক চারপাশের পরিবেশের প্রভাবে অসহায় হয়ে পড়ে। আর কিছু না, কেবল একটা হাতের অভাববোধ করে মানুষ তখন ধরে রাখার জন্যে। তাকিয়ে দেখুন, শত ঝামেলা ঠেলে হলেও আপনার ছোটবেলার বন্ধুরা ঠিকই আপনার জন্যে তখন হাত বাড়িয়ে দেবে।

কথা না বলার মুহূর্ত
আলসেমী লাগছে? কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা? অথচ এক কাপ কফি পেলে কিন্তু বেশ ভালো হত! কেবল মনে মনে বলুন আর বন্ধুর দিকে তাকান। ঠিক আপনার প্রয়োজন বুঝে যাবে সে। কোন কথা ছাড়াই। এভাবেই আরো অনেক কথাই না বলেও বোঝানো যায় কেবল ছোটবেলার বন্ধুদেরই।

পুনরাবৃত্তি
একই কথা বারবার মনে হচ্ছে? খানিক পরপর সেটা বলাতে চারপাশের মানুষগুলো বিরক্ত হচ্ছে? বলে দেখুন ছোটবেলার বন্ধুদের। ওরা আপনার বারবার বলা একই কথাগুলোর বিরক্তিকে পাশ কাটিয়ে খোঁজার চেষ্টা করবে ঠিক কেন আপনি এতবার করে একই কথা বলছেন আর ভুলিয়ে দিতে চাইবে আগের কষ্টগুলোকে।

অন্যকে নিয়ে মজা করা
খুবই বাজে একটা ব্যাপার। কিন্তু এই অন্যকে নিয়ে তুচ্ছ কারণে হো হো করে হাসাটা কেবল সম্ভব ছোটবেলার বন্ধুদের সাথেই।

খাওয়া
আর সবার সামনে অনেকটা গুছিয়ে আর ছিমছামভাবে খাওয়া-দাওয়া করলেও ছোটবেলার বন্ধুরা হচ্ছে সেই মানুষেরা যাদের সামনে আপনি খেতে পারবেন প্রচন্ড গতিতে আর যতটা খুমি, যেভাবে খুশি।

যৌক্তিকতা
ছোটবেলার বন্ধুরা কোনকিছুতেই কোন যৌক্তিকতা খোঁজে না। আর তাই কোন বলা কওয়া ছাড়াই জিনিস ধার নেওয়া, হেড়ে গলায় গান গাওয়া, হঠাত্ রেগে যাওয়া বা কান্না করা, উদ্ভট পোজে ছবি তোলা- এসবই সম্ভভ কেবল ছোটবেলার বন্ধুদের সাথেই। এমনকি খুব ব্যক্তিগত আর পারিবারিক কোন ব্যাপার? সেটাও খোলা মনে আপনি শেয়ার করতে পারবেন কেবল ছোটবেলার বন্ধুদের সাথেই।