মেইন ম্যেনু

যে কারণে অবসর জরুরি

ফারিন সুমাইয়া : ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু, রবীন্দ্রনাথের এই লাইনের মতোই আমাদের জীবন একটু বিরতি চায়। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন সারাদিনের ব্যস্ততায় আমরা কতো কিছুই ভুলে যাই। সেইসঙ্গে একটু একটু করে বাড়তে থাকে কাজের চাপ আর দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব কখনো কখনো আপনার চোখের ঘুম হারামও করে দেয়। ফলে আপনার রক্তচাপের বাজে বারোটা আর সঙ্গে বাড়তে থাকে মানসিক চাপ। এই অল্প অল্প জমা কাজের চাপ যেমন আপনার অবসর থেকে আপনাকে টেনে ধরে তেমনই আপনাকে কানে কানে চুপি চুপি বলে যে ছুটির সময় চলে এসেছে।

ছোটবেলায় আপনি যখন স্কুলে ছিলেন তখন আপনার প্রহর কাটতো ছুটির ঘণ্টার শব্দ শোনার অপেক্ষায়। আর সেই শব্দ মানে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। ওই অল্প সময়ের ছুটি আপনাকে যে আনন্দ দিতো তা আপনার সারা দিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতো। সেই অল্প সময়ের ছুটি যদি আপনার জন্য এতোটা কাজের হয়, তবে এই ইট-পাথরেরে তৈরি ব্যস্ত নগর জীবন থেকে ছুটি আপনার জন্য কতোটুকু জরুরি তা ভেবে দেখুন।

আপনি যদি সারাক্ষণ কাজের মাঝে ডুবে থাকেন, তবে আপনার শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আপনার হ্যালোসিনেশন হতে পারে। আপনি আস্থাহীনতায় ভুগতে পারেন। আপনার মাঝে অতিমাত্রায় বাস্তবতাবোধ উঁকি দিতে পারে। যা আপনার আশপাশের মানুষগুলোর জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনই আপনার জন্যও। তাই নিজের এই ব্যস্ত জীবন থেকে নিজেকেই একটু ছুটি দিন।

নিজের আশপাশের দুনিয়ায় কী ঘটছে, তা জানা জরুরি। আপনি যে কাজটি করছেন, তাই সারা জীবন করবেন- এমনটা নয়। আপনার নিজের জ্ঞানভাণ্ডার পরিপূর্ণ করতে অবসর জরুরি। এতে যেমন ঘোরাঘুরি হয়ে থাকে তেমনই চারপাশে কী হচ্ছে, তা জানা যায়।

আপনি যখন কাজের ব্যস্ততা থেকে মুখ তুলে আশপাশে তাকাবেন, হয়তো দেখবেন এই ব্যস্ততা আপনার কাছের বন্ধুগুলোকে কেড়ে নিয়েছে। তাই আবার সময় বের করে তাদের সঙ্গে সময় কাটান। বন্ধুদের জন্য আপনার অবসর সময়ের একটা ভাগ রেখে দিন।

বৈবাহিক কলহের অন্যতম একটি কারণ আপনি নিজেই হতে পারেন। আপনার কাজ আপনার সঙ্গী অথবা কাছের মানুষটির থেকে যে আপনাকে একটু একটু করে দূরে নিয়ে যাচ্ছে, আপনি হয়তো তা বুঝতেই পারছেন না। আপনি যখন তাকে লাখো ব্যস্ততার মাঝে সময় দেবেন, তাকে বলবেন যে তার জন্য আপনি অবসর বের করেছেন, দেখবেন সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।