মেইন ম্যেনু

যৌনকর্মীকে ফ্ল্যাটে এনে খুন করে ভিডিও ধারণ! ব্যাংককর্তার কান্ডে আঁতকে উঠলেন বিচারকরা

w16-01

কেমব্রিজের প্রাক্তন ছাত্র, ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার অন্যতম প্রাক্তন শীর্ষকর্তা! আর সেই মানুষটিই যে এতটা নৃশংস এবং বিকৃতমনস্ক হতে পারে, তা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না ইন্দোনেশিয়ার আদালতের বিচারপতিরা।

হংকংয়ে নিজের ফ্ল্যাটে দুই যৌনকর্মীকে গলা কেটে খুন করার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার প্রাক্তন শীর্ষকর্তা রুরিক জুটিংকে ২০১৪ সালে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সুমার্তি নিংঘসি এবং জেসি লোরেনা নামে দুই যৌনকর্মীকে নৃশংস অত্যাচার করে ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে খুন করেছিল জুটিং। এর মধ্যে সুমার্তি নিংঘসি নামে আদতে ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা এক যৌমকর্মীকে খুন করার আগে তিন দিন ধরে তার উপর অত্যাচার চালিয়েছিল জুটিং।

খুনের আগে এবং পরে কোকেন সেবন করে গোটা পর্বের বিবরণ নিজের আইফোনে ভিডিও রেকর্ডিং করে রাখে এই অপরাধী। বার বার ওই যৌনকর্মীকে তার সন্তানের কথা বলে নির্যাতন চালিয়েছিল জুটিং। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভিডিও রেকর্ডিং করে জুটিং। কীভাবে ওই যৌনকর্মীর উপরে সে নির্যাতন চালিয়েছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণও নিজের ভিডিওতে ব্যাখ্যা করে সে। সুমার্তিকে গলা কেটে খুন করার পরে নিজের বাথরুমের মধ্যে ফেলে রেখেছিল ৩১ বছর বয়সি জুটিং।

এর পরে নগ্ন হয়ে নিজের আইফোনে ভিডিও রেকর্ডিং শুরু করে সে। সেখানেই সে স্বীকার করে, খুন করার আগে সুমার্তিকে একাধিকবার ধর্ষণও করে সে। ওই যৌনকর্মীকে খুন করে হংকংয়ে নিজের অভিজাত ফ্ল্যাটের বারান্দায় রেখে দিয়েছিল জুটিং। এর কয়েকদিন পরেই জেসি লোরেনা নামে এক মহিলাকেও নিজের ফ্ল্যাটে গলা কেটে খুন করেছিল জুটিং। নিজের শ্যুট করা ভিডিওতে জুটিং স্বীকার করে, মানুষ হিসেবে নয়, নিংঘসিকে আসলে নিজের যৌন লালসা চরিতার্থ করার একটি বস্তু হিসেবে ব্যবহার করেছে সে। আবার রক্তে ভেসে যাওয়া সুমার্তির দেহের সামনে গিয়ে নিজেই বলে, ‘এরকম পরিণতি আমি চাইনি।’

গোটা ভিডিওটা এতটাই নৃশংস ছিল যে বিচারকরা অনেকেই তার পুরোটা দেখতে পারেননি। সুমার্তির উপরে বীভৎস অত্যাচার দেখে একজন বিচারক কেঁদেও ফেলেন। যদিও যার বিরুদ্ধে এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, সেই রুরিক জুটিংয়ের দাবি, পুরো ঘটনাটাই মাদকাসক্ত হয়ে ঘটিয়েছে সে। সচেতনভাবে দুই মহিলাকে খুন করেনি বলেই নিজেকে নিরপরাধ বলে দাবি করে জুটিং।

যদিও যে ভিডিওটি আদালতে দেখানো হয়, সেটি এতটাই বীভৎস ছিল যে নিজেও তা দেখতে পারেনি জুটিং। আদালতে উপস্থিত সাধারণ মানুষকেও এই ভিডিও দেখতে দেওয়া হয়নি। জুটিং অবশ্য স্বীকার করেছে, লন্ডনেও তিনজন স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীকে অপহরণ করে যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল সে।

হংকংয়ে ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্তা জুটিংয়ের হাতে দুই মহিলার নৃশংস খুনে গোটা বিশ্বে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সেই অপরাধেরই বিচার চলছে হংকংয়ের আদালতে। যে দিন এই কাণ্ড ঘটায় জুটিং, তার আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছিল এই অভিযুক্ত।