মেইন ম্যেনু

রংপুরকে হারিয়ে একক ভাবে শীর্ষে ঢাকা

টানা তিন জয়ে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ স্থানে একক ভাবে উঠে এল ঢাকা ডায়নামাইটস। সাকিব আল হাসানের দলটি বুধবারের প্রথম খেলায় রংপুর রাইডার্সকে পাত্তাই দেয়নি। হারিয়েছে ৪২ রানে। প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে গত বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান ইভিন লুইস ২১ বলে ফিফটি করেছেন। ৩৪ বলে ৮ ছক্কা ও ৩ চারে ৭৫ রান করেন তিনি। মেহেদী মারুফ ৩১ বলে করেছেন ৪০ রান। সাকিব ২০ বলে ২৯। তাতে ৭ উইকেটে ১৮৮ রান করে ঢাকা। জবাবে, ৪৬ রানে ৬ উইকেট হারায় রংপুর। শেষ পর্যন্ত লড়ে ৮ উইকেটে ১৪৬ রান তোলে তারা। এবারের আসরে প্রথম দেখাতেও ঢাকা হারিয়েছিল রংপুরকে।

এই হারে রংপুর ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার নিচের দিক থেকে তৃতীয় থাকলো। অথচ তাদের শিরোপার দাবিদার মনে হচ্ছিল কদিন আগেও। টানা চার ম্যাচ হারল তারা। আর ঢাকা ১০ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বড় রান তাড়া করতে গিয়ে শুরু থেকেই বিপদে ছিল রংপুর। মোহাম্মদ শাহজাদ নিষেধাজ্ঞায়। সৌম্য সরকারের ফর্ম নেই। দুই পাকিস্তানি শহীদ আফ্রিদি ও নাসির জামসেদ ওপেন করলেন ব্যাটিং। কিন্তু ইনিংসের তৃতীয় বলেই আফ্রিদি (০) আবু জায়েদকে তুলে মেরে ফিরলেন। এরপর নিয়মিত উইকেট তুলে নিতে থাকে ঢাকা।

ফর্মে থাকা মোহাম্মদ মিথুনও (১) আবু জায়েদের শিকার। ৯ রানে ২ উইকেট নেই রংপুরের। এরপর জামসেদ (২১) ও জিহান রুপাসিংহে (৮) ৩২ পর্যন্ত নিলেন দলকে। কিন্তু এরপর দুই ওভারে ওই দুই ব্যাটসম্যানকে শিকার করে ফেলেন সাকিব আল হাসান। এই পর্যায়ে ৩ রানে ৩ উইকেট হারায় রংপুর। লিয়াম ডসন (১১) সেকুগে প্রসন্নর শিকার। ৭ নম্বরে ব্যাট করা সৌম্যকে (১) মুক্তি দিয়েছে রান আউট!

৪৬ রানে ৬ উইকেট হারানো রংপুর এরপর লড়াই করেছে সোহাগ গাজী ও জিয়াউর রহমানের ব্যাটে। কিন্তু ওই লড়াইয়ে জয়ের কোনো আশা দেখা যায়নি। সপ্তম উইকেটে ৮৭ রান করেছেন তারা। সোহাগ ৩৬ রান করেছেন। ৪৩ বলে ৬০ রান জিয়ার। আবু জায়েদ ৩, সাকিব ২ উইকেট নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক পেরুনো সাকিবের মোট উইকেট এখন ২৫১টি।

এর আগে ৯ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০১ রান ছিল ঢাকার! তাহলে ২০ ওভারে তো দুইশ পেরিয়ে যাওয়াই উচিৎ? তা হয়নি রংপুরের বোলাররা এরপরই লড়াইয়ে ফেরায়। তারপরও ঢাকার রানের চাপে পিষ্ট রংপুর।

লুইস কদিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ১৪৮ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে এসেছেন। আর মারুফ তো এই আসরের চমক এবার। মারুফ ও লুইস মিলে ঝড় তোলেন শুরু থেকে। দারুণ বিনোদন। ষষ্ঠ ওভারে সোহাগ গাজীকে পর পর দুটি ছক্কা হাঁকান লুইস। তবে পরের ওভারে দুই ওপেনার হামলে পড়েন শহীদ আফ্রিদির ওপর। এই ওভারে ৩ ছক্কার দুটি মারেন লুইস। একটি মারুফ। আফ্রিদিকে দিতে হয় ২১ রান।

ঝড়ের গতিতে রান আসতে থাকে। কিন্তু এরপর ৩ বলে ২ উইকেট নেয় রংপুর। ১০৩ থেকে ১২৯ রানের মধ্যে তুলে নেয় ৪ উইকেট। ১০৩ রানের জুটি মারুফ ও লুইসের। ওই পতন ঠেকিয়ে অধিনায়ক সাকিব ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০ বলে করেছেন ২৯ রান। ডোয়াইন ব্রাভো ১৬ ও মোসাদ্দেক হোসেন অপরাজিত ১৪ রানে দলের সংগ্রহ বড় করেছেন। রুবেল হোসেন ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ২টি করে উইকেট সৌম্য ও জিয়ার। কিন্তু তাদের চেয়ে ঢাকার বোলিংয়ে ধার ছিল বেশি। তাই জয় ঢাকারই।