মেইন ম্যেনু

রাগীব আলীকে হস্তান্তর করেছে ভারত

সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলীকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় সিলেটের বিয়ানীবাজারের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে রাগীব আলীকে হস্তান্তর করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাগীব আলীকে আদালতে হাজির করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাগীব আলীকে ভারতের করিমগঞ্জ থেকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

রাগীব আলীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়ে ছিলেন সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা।

প্রসঙ্গত, জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে সিলেটের তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ এবং প্রতারণার আলোচিত দুটি মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে-মেয়েসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ১০ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

অন্যদিকে প্রতারণার মামলায় রাগীব আলী, তার ছেলে আবদুল হাই, জামাতা আবদুল কাদির, মেয়ে রুজিনা কাদির, রাগীব আলীর আত্মীয় মৌলভীবাজারের দেওয়ান মোস্তাক মজিদ ও তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরপরই ছেলেকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান রাগীব আলী। এ ছাড়া মামলার আসামি রাগীব আলীর আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদ গত ১০ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১২ নভেম্বর রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইকে জকিগঞ্জ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার আরেক আসামি পঙ্কজ কুমার গুপ্ত জামিনে রয়েছেন।

৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গার ওপর তারাপুর চা বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। আশির দশকে জালিয়াতির মাধ্যমে এটি দখলে নেন রাগীব আলী। এ নিয়ে চলা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে গত ১৯ জানুয়ারি তারাপুরে রাগীব আলীর দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।