মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে হাজার মানুষের ঢল

BenQ Corporation

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে লক্ষীপূজা উপলক্ষে কুজাইল মেলায় অবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বলীদের লক্ষীপূজার আনন্দ উৎসব আরো মুখোরিত করে তুলেছে। নৌকা বাইচ কেন্দ্র করে রাণীনগর উপজেলার কুজাইল মেলায় হাজারও মানুষের ঢলে মুখোরিত ছিল। এ যেন লক্ষী উৎসবের পর আরো একটি মিলন মেলায় উৎসব। গত মঙ্গলবার বিকেলে বিপুল আড়মম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নওগাঁর ছোট যুমনা নদীর কাশিমপুর ইউপি’র কুজাইল বাজারে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রাম বাংলার প্রায় বিলুপ্তী ঐতিহ্যবাহি নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে বিভিন্ন বয়সের হাজারও নারী-পুরুষ সমাবেত হন। এই নৌকা বাইচ খেলায় চারটি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় হাসাইগাড়ী গ্রামের দল প্রথম এবং দ্বিতীয় নওগাঁর সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুরের দল।
রাণীনগর উপজেলার একমাত্র ঐতিহাসিক স্থান ছিল কাশিমপুর রাজবাড়ী। কথিত আছে এখানকার রাজার শাসন আমলে রাজবাড়ীর আশে-পাশের এলাকা আতাইকুলা, কৌনজ, মিরাট, কাশিমপুর, বেতগাড়ী, ত্রিমোহনী, শৈলগাছীসহ বেশকিছু এলাকার সনাতন ধর্মালম্ভীদের লক্ষীপূজা উপলক্ষে রাজার নির্দেশে কুজাইল বাজারের গাঁ-ঘেষে বয়ে যাওয়া নওগাঁর ছোট যুমনা নদীতে দুই দিন ব্যাপী নৌকায় লক্ষী প্রতিমা নিয়ে ঢাঁকের তালে তালে সিঁদুর ছিটিয়ে ধুপের ধোঁয়ায় নেচে-গেয়ে উৎসব মুখোর পরিবেশে গোধুলি লগ্নে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। মেলার দ্বিতীয় দিন শুধু এলাকার গৃহবধু,যুবতীদের ভিরই ছিল বেশি।যে কারণে মেলার দ্বিতীয় দিনটিকে এলাকা বাসি বৌ মেলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মেলা শেষে পরের দিন জমে উঠে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। মেলা উপলক্ষে এখানে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা যুগযুগ ধরে হয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা জানায়। এ যেন লক্ষী উৎসবের পর আরোও একটি হাজারও মানুষের মিলন মেলার উৎসব।