মেইন ম্যেনু

রাত জাগলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে সময়মতো ঘুমিয়ে সকালে ওঠে তাদের সঙ্গে মিলিয়ে একই পরিমাণ ঘুমালেও রাতজাগা মানুষের শর্করার সমস্যা হতে পারে।

মানুষের স্বাভাবিক ঘুমচক্রে রাত ও দিনের প্রভাব বিষয়ক এই গবেষণা ক্লিনিকাল এন্ডোক্রিনলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম জার্নালে প্রকাশিত হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা মানুষদের থেকে যারা দেরিতে ঘুমায় এবং দেরিতে ওঠে তাদের ডায়াবেটিস ছাড়াও ‘মেটাবলিক সিন্ড্রম’ এবং সার্কোপেনিয়া (বয়সের সঙ্গে পেশীর কোষ ক্ষয় রোগ) হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

গবেষকরা জানান, এছাড়া শেষ রাত পর্যন্ত জেগে থাকার ফলে কম ঘুম হওয়া, ভালো ঘুম না হওয়া এবং অসময়ে খাওয়া হয়। যা শেষ পর্যন্ত বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে।

এই গবেষণার অন্যতম লেখক, দক্ষিণ কোরিয়ার উইনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক নান হি কিম বলেন, “যারা সকালে ওঠেন তাদের চাইতে অবিবেচিত জীবনযাপনের ফলে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা ব্যক্তিরা ডায়াবেটিস বা পেশী ক্ষয়ের মতো নানারকম শারীরিক সমস্যার ঝুঁকিতে থাকেন।”

তিনি আরও বলেন, “এসব অসুখের কারণ হতে পারে ‘নাইট আউলস’ প্রবণতা। যেগুলোর মধ্যে ঘুম না হওয়াসহ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস যেমন- ধূমপান, শেষ রাতে খাওয়া এবং নড়াচড়া না করার জীবনযাপন রয়েছে।

কোরিয়ান জিনোম এপিডিমিওলজি জরিপে অংশ নেওয়া ১,৬২০ জন অংশগ্রহণকারীর একদশমাংশ তথ্য নিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস এবং মেটাবলিজম বিষয়ক এই গবেষণা করা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ছিল ৪৭ থেকে ৫৯।

এমনকি সকালে ওঠা ব্যক্তিদের চাইতে যে তরুণরা সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে রাত জাগে তাদের শরীরে ও রক্তে উচ্চমাত্রায় চর্বী পাওয়া গেছে।

তাছাড়া ‘নাইট আউল’দের ধীরে ধীরে সার্কোপেনিয়া বা পেশীর কোষ ক্ষয় রোগ দেখা দেয়।

আর যেসব পুরুষ সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে রাত জাগে তাদের সকালে ওঠা মানুষদের থেকে ডায়াবেটিস বা সার্কোপেনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

আর নারীদের মধ্যে যারা ‘রাতজাগা পাখি’ যাদের পেটে মেদ জমার পাশাপাশি বিপাকীয় সমস্যায় ভুগতে পারেন। যা থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।