মেইন ম্যেনু

রামপালে নয় অন্যত্র চাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র : বিএনজিপি

bngp-rampal01

ঢাকা- সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটিকে পরিবেশ বিরোধী আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ নিউ জেনারেশন পার্টি-বিএনজিপি। রবিবার সকালে নগরীর নিকুঞ্জস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সুন্দরবনের রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে না’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহিদ ইকবাল।

তিনি বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে সুন্দরবন তথা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং ওই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবনের কাছ থেকে অন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
এছাড়া দলের অন্যান্য সদস্যরা রামপাল প্রকল্পটির বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন।

আলোচকরা বলেন, রামপালে প্রতিষ্ঠিতব্য এই ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতে প্রতিষ্ঠার জন্য ৭৯২ একর একফসলি কিংবা অনুর্বর পতিত জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল অথচ বাংলাদেশে সেই একই প্রকল্পের জন্য ১৮৩৪ একর কৃষি, মৎস্য চাষ ও আবাসিক এলাকার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যার ৯৫ শতাংশই তিনফসলি কৃষি জমি, যেখানে বছরে ১২৮৫ টন ধান ও ৫৬৯ দশমিক ৪১ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। এই ধান-মাছ উৎপাদন বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে এখন প্রায় ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হবে, যার মধ্যে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ পরিবার।

বাংলাদেশের ইআইএ প্রতিবেদন অনুসারেই প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার ১০ কিমি ব্যাসার্ধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে ৭৫ শতাংশ কৃষি জমি, যেখানে বছরে ৬২ হাজার ৩৫৩ টন ধান এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৬১ টন অন্যান্য শস্য উৎপাদিত হয়। গরান (ম্যানগ্রোভ) বনের সঙ্গে এই এলাকার নদী ও খালের সংযোগ থাকায় এখানে বছরে ৫,২১৮ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রকল্প এলাকার ফসল ও মৎস্য সম্পদ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পরিবহন করার ফলে বাড়তি নৌযান চলাচল, ক্ষতিকর রাসায়নিক ও তেলসহ কঠিন ও তরল বর্জ্য নিঃসরণ, শব্দদূষণ, আলো দূষণ ইত্যাদি। পরিবেশ আইন অনুসারে এসব নিয়ন্ত্রণের কোনো নজির বাংলাদেশে নেই বলেই আমরা বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর দিকে তাকালে প্রমাণ পাই। সুতরাং এই অতিরিক্ত নৌযান চলাচলের ফলে সুন্দরবনের বাস্তুব্যবস্থা (ইকোসিস্টেম) বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, ডলফিন, গরান বন ইত্যাদির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

এছাড়াও প্রকল্প নির্মাণ পর্যায়ে পশুর নদীতে ড্রেজিং করার কারণে নদীর পানি ঘোলা হয়ে নদীর বাস্তুব্যবস্থা বিপন্ন হবে এবং জেটি ও নদীতীর সংরক্ষণের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের সময় গরান বনভূমির অনেক গাছ ও ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করতে হবে। বিভিন্ন পাখি, বিশেষ করে সারস ও বক জাতীয় পাখির বসতি নষ্ট হবে।

আলোচকরা আরও বলেন, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানিকৃত কয়লা সুন্দরবনের ভেতর দিয়েই পরিবহন করা হবে। সমুদ্রপথে বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন আমদানি করা কয়লা প্রথমে বড় জাহাজে করে সুন্দরবনের ভেতরে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত আনতে হবে, তারপর আকরাম পয়েন্ট থেকে ছোট ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে কয়লা পরিবহন করে প্রকল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিতব্য কয়লা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে। এতে করে সুন্দরবনের ভেতরে হিরণ পয়েন্ট থেকে আকরাম পয়েন্ট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার নদীপথে বড় জাহাজে বছরে ৫৯ দিন এবং আকরাম পয়েন্ট থেকে রামপাল পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিমি পথ ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে বছরে ২৩৬ দিন পরিবহন করতে হবে! এভাবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ চলাচল করার ফলে সরকারি ইআইএ প্রতিবেদন অনুসারেই প্রথমত কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ থেকে কয়লার গুঁড়ো, ভাঙা বা টুকরো কয়লা, তেল, ময়লা-আবর্জনা, জাহাজের দূষিত পানিসহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নিঃসৃত হয়ে নদী-খাল-মাটিসহ গোটা সুন্দরবন দূষিত করবে; দ্বিতীয়ত, সুন্দরবনের ভেতরে আকরাম পয়েন্টে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা স্থানান্তর করার সময় কয়লার গুঁড়ো, ভাঙা কয়লা পানিতে বা মাটিতে পড়ে কিংবা বাতাসে মিশে গিয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটাবে; তৃতীয়ত, কয়লা পরিবাহী জাহাজের ঢেউ পশুর নদীর দুই তীরের ভূমি ক্ষয় করবে, কয়লা স্থানান্তরের যন্ত্রপাতি শব্দদূষণ ঘটাবে এবং রাতের বেলায় জাহাজের সার্চলাইটের আলো নিশাচর প্রাণীসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুন্দরবনের পশু-পাখির জীবনচক্রের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সহ-সভাপতি ইন্জিনিয়ার আরাফাত মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, নূর আলম সিদ্দিকী মানু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.মনির বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক জাহিদ ফয়সাল,কিরন আহমেদ, জয়নাল আবেদীন, প্রচার সম্পাদক কাজী মেহেদী হাসান, আলী হোসেন মিয়া, জাকিরুল ইসলাম, রনি ইমরান,শাজাহান আলী সুমন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ নিউ জেনারেশন পার্টি( বিএনজিপি) ‘পরিবর্তনের জন্য তারুণ্য’ স্লোগানের মাধ্যমে ২০১২ সালের নভেম্বর মাসের ০২ তারিখে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।