মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ চুরি: মামলার তদন্তে বিলম্ব যে কারণে

নানা জটিলতায় রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ছাড়াও আরও আটটি দেশের নাগরিকরা রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত। তাই মামলার তদন্তেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষ জড়িত। সবগুলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তাদের।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট সিআইডি’র কর্মকর্তারা জানান, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ছাড়া আরও আটটি দেশের নাগারিক জড়িত রয়েছে। রিজার্ভ চুরির রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন তারা। প্রায় ৭০ ভাগ তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। দেশে-বিদেশে কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত এখন তাদের হাতে। কিন্তু অন্য দেশের যেসব নাগরিক এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে ওইসব দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। চাইলেই জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় তাদের বিরুদ্ধে। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে যেসব দেশ জড়িত সেগুলো হচ্ছে ফিলিপাইন, হংকং, ম্যাকাও, চায়না, শ্রীলঙ্কা, মিসর, সিঙ্গাপুর ও জাপান।

রিজার্ভ চুরির ঘটনার মামলার তদন্ত শেষ করতে দেরি হচ্ছে কেন জানতে চাইলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কমান্ডেন্ট ও মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, ‘অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমাদের তদন্ত এগুচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষ জড়িত। তাছাড়া, তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া তথ্য-প্রমাণগুলো নিশ্চিত করার কাজও চলছে।’

তিনি বলেন, ‘এ মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের উদ্যোগে গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশসহ আটটি দেশের ২৫ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কিভাবে এ মামলার তদন্তকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায় সেই বিষয়টি বৈঠকে অগ্রাধিকার পেয়েছে।’

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গত ১৫ মার্চ সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন, ব্যাংকিং ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস ও বুয়েটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। কাজ শুরুর এক মাসের মধ্যেই গত ২০ এপ্রিল সরকার গঠিত এ কমিটি রিজার্ভ চুরির অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেন অর্থমন্ত্রীর কাছে। যদিও সেটি আজও প্রকাশ করা হয়নি।

ফরাস উদ্দিনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিআইডি’র কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, ‘ফরাস উদ্দিন সাহেবের রিপোর্ট হচ্ছে একটা প্রশাসনিক বিষয়। তারা প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট থেকে স্বাধীনভাবে তদন্ত করেছেন। তারা আমাদের কাছে যখন যা সাপোর্ট চেয়েছেন, আমরা তা দিয়েছি। আমাদের ফরেনসিক ল্যাবেও তাদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছি। তারা তাদের মতো রিপোর্ট দিয়েছেন। আমরা আমাদের মতো কাজ করছি।’

শাহ আলম বলেন, ‘প্রশাসনিক রিপোর্টের ধরণটা হচ্ছে যে, অমুক অমুকের গাফিলতির কারণে এগুলো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। দু’টোর প্রেক্ষাপটই দু’রকম।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তের ক্ষেত্রে সিআইডি’র কাজের ক্ষেত্রটা কিছুটা ভিন্ন। আমরা তথ্য-উপাত্তসহ আদালতে রিপোর্ট দেবো। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মাথায় রাখতে হয় যে, আমাকে প্রতিপক্ষের উকিল জেরা করবেন। সেজন্য আমি যা বলব সেটার তথ্য-উপাত্ত আমাকে দিতে হবে। কারণ, আমাকে জেরার মুখোমুখি হতে হবে। তাই আমাদের রিপোর্টের ধারাটা ভিন্ন। আমার রিপোর্টে দেশি-বিদেশি নানা চক্র, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হবে। তাই তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ আমার হাতে রেখেই আমাকে কথাগুলো বলতে হবে।’

সিআইডি’র এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরাতো তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে চাই। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কোনও ঘটনার ঘটনাস্থল যখন দেশের বাউন্ডারি ক্রস করে, তখন আমাদের পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয় ওই দেশের দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ওপর। যেসব দেশের নাগরিকরা এ ঘটনায় জড়িত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও তারা এ বিষয়ে সাড়া দেননি। নানা কারণেই রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্তকাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

সিআইডি ছাড়াও রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পুলিশ সদর দফতর, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। সবগুলো বিভাগের একটি সমন্বিত টিম এ তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। অর্থ চুরির ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান।