মেইন ম্যেনু

লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে যে রাস্তা

1479703998

প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ যে রাস্তা দিয়ে পালিয়ে বেঁচেছেন, আর যে রাস্তা দিয়ে একটা অবরুদ্ধ শহরের মানুষের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টন খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে, সেটাকে তো ‘রোড অফ লাইফ’ বলাই যায়৷ এ নিয়েই দেখুন ছবিঘর৷

বরফের ওপর রাস্তা:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ শহর ৮৭২ দিন অবরুদ্ধ ছিল৷ চারপাশ থেকে যোগোযোগ ছিল বন্ধ৷ সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে শীতের সময় লাদোগা হৃদের জমে যাওয়া পানির ওপর রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল৷ ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটাই লেনিনগ্রাদের মানুষের কাছে ‘রোড অফ লাইফ’ নামে পরিচিত৷

দশ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু:
অবরুদ্ধ নগরীতে বাস করা মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় সেসময় বহু মানুষ মৃত্যবরণ করেছিলেন৷ এক হিসেবে জানা যায়, ৮৭২ দিনে লেনিনগ্রাদের অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যার প্রায় ৯০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ ছিল খাবারের অভাব৷

বেঁচে গেছে প্রায় ১৫ লক্ষ:
‘রোড অফ লাইফ’-এর কারণে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ শহর ছাড়তে পেরেছেন৷ আর যাঁরা শহরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টন খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে৷

পরিকল্পনা:
শহর অবরুদ্ধ হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে শীতকালে জমে যাওয়া লাদোগা হৃদের পানির ওপর রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়৷ এ সময়, যে স্থানে বরফের পুরুত্ব কম সেখানে গাছের গুঁড়ি কিংবা বরফ ফেলে জোড়া দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়৷

বিপদসংকুল:
‘রোড অফ লাইফ’ দিয়ে চলাচল সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ ছিল৷ বরফ ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাতো ছিলই৷ আরও ছিল শত্রুপক্ষের বোমা হামলার আশঙ্কা৷ সড়কের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া হলেও মাঝেমধ্যেই শত্রুপক্ষের হামলার সম্মুখীন হতে হতো৷

প্রথম বাহন:
ঐ রাস্তার ওপর দিয়ে ঘোড়াচালিত এমন বাহন প্রথম চলাচল করে৷ তবে পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়া এসব ঘোড়া মানুষ ও পণ্য টানতে গিয়ে প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে পড়তো৷ ফলে অনেক ঘোড়া দিয়ে পুরো রাস্তা পাড়ি দেয়া সম্ভব হতো না৷

এরপর ট্রাক:
ঘোড়াচালিত গাড়ির পর ‘রোড অফ লাইফ’ দিয়ে ট্রাক চলাচল শুরু করে৷ শহরে ঢোকার সময় যে ট্রাক খাবার নিয়ে যেত, ফেরার সময় সেটা মানুষ নিয়ে ফিরত৷ তবে সড়কটা বরফের হওয়ায় বেশি পণ্য বা মানুষ বহন করতে পারতো না ট্রাকগুলো৷ ফলে রাস্তা চালু হওয়ার প্রথম দু’সপ্তাহে ১৫৭টি ট্রাক বরফ ভেঙে হৃদের পানিতে ডুবে গিয়েছিল৷

যাত্রা শুরুর আগেই মৃত্যু:
লেক লাদোগা পাড়ি দেয়ার জন্য অবরুদ্ধ লেনিনগ্রাদের অধিবাসীদের আগে ট্রেনে করে লেক পর্যন্ত পৌঁছতে হতো৷ কিন্তু ট্রেনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বেশিরভাগ মানুষকেই অপেক্ষায় থাকতে হতো৷ এভাবে বেশিদিন অপেক্ষায় থাকতে না পেরে অনেক লোক, যাঁদের বেশিরভাগই শিশু, ট্রেনে ওঠার আগেই মারা পড়তো৷

প্রতিদিন ১২৫ গ্রাম:
রেশন হিসেবে অবরুদ্ধ লেনিনগ্রাদের অধিবাসীদের দেয়া হতো ব্রেড৷ প্রতিদিন একেকজনকে ১২৫ গ্রাম ব্রেড দেয়া হতো বলে জানা গেছে৷-dw