মেইন ম্যেনু

শামুক সংগ্রহ করে জীবন চলে ওদের!

pic-raninagarnaogaon-27-11-16

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) : সকাল হলেই চোখে পরে ওদের রাণীনগর রেল ষ্টেশনে । আবার সন্ধ্যার আগেই মাথায় শামুক ভরা বস্তা নিয়ে ষ্টেশনে হাজির হয়। ওরা আসে দিনাজপুর,জয়পুরহাট ও ফুলবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। জীবন-জীবিকার তাগিদে এতো দুর রাস্তা পেরিয়ে প্রতিদিন আসে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় শামুক সংগ্রহের জন্য। প্রতিদিন বস্তা,বস্তা শামুক সংগ্রহ করে নিয়ে বিক্রি এবং খেয়ে জীবন ধারন করেন তারা ।

শামুক সংগ্রহ করতে আসা খোকাই টুডু (৪২) তিনি এসেছেন জয়পুর হাট জেলার পাচবিবি উপজেলার বাগোয়ান গ্রাম থেকে।সঙ্গে রয়েছেন দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার গোপালপুর গ্রাম থেকে কমল সরণ (৩৬) । সাথে রয়েছে মাহি পাওরিয়া (৪৮) সহ প্রায় আরো ১০/১২ জন । সবার মাথায় বস্তায় ভরানো শামুক। সারা দিন রাণীনগর উপজেলার বিল মুনচুর,বিল চোর,গোনার মাঠ,রতন বাডারীর খাল,রক্তদহ বিলসহ বিভিন্ন খাল বিলে শামুক সংগ্রহ করে বস্তায় ভরে মাথায় নিয়ে একে একে হাজির হয়েছেন রাণীনগর রেল ষ্টেশনে। সন্ধায় আবারো ট্রেন যোগে নিজ নিজ বাড়ী ফিরবেন তারা । দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি, জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বল্প আয়ের লোকজনেরা পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী গামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রতিদিন দলে দলে নারী পুরুষ যুবক-যুবতী সকাল ৭টার দিকে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশনে নামে। পরে তারা কয়েক দলে বিভক্ত হয়ে ভটভটি ও ভ্যান সারা দিনের জন্য চুক্তিভিক্তিক রির্জাভ করে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন খাল বিলে গিয়ে শামুক সংগ্রহের জন্য মাঠে নামেন তারা। সারাদিনে প্রতিজন প্রায় ৮০ থেকে ১শ’ কেজি শামুক সংগ্রহ করেন তারা। যার আনুমানিক মূল্য (ওই এলাকায়) ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। আর এই শামুক খেয়ে এবং বিক্রি করে সংসার চলে তাদের।

জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের খোকাই টুডু (৪৩) ও মাহি পাওরিয়া (৫০) জানান, আমরা ছেলে-মেয়ে সহ উত্তরা ট্রেনে রাণীনগর ষ্টেশনে সকালে নেমে কয়েক জন করে দলবদ্ধ হয়ে বিলে শামুক তুলতে যাই। সূর্য ডোবার আগে প্রতিজন এক বস্তার কিছু বেশি শামুক হলেই ভ্যানে তুলে স্টেশনে নিয়ে এসে রকেট মেইল যোগে বাড়িতে চলে যাই। আমরা তিন জন মিলে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার শামুক সংগ্রহ কওে নিজেরা খেয়ে বাঁকীগুলো বিক্রয় করি । রাণীনগর এলাকায় যে পরিমান শামুক পাওয়া যায় তা অন্য এলাকায় এতো পরিমান পাওয়া যায় না । বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরই আমরা প্রতি বছর এই এলাকায় আসি শামুক সংগ্রহ করতে।