মেইন ম্যেনু

ফুটপাতের বই থেকে ঢাবির ভর্তি প্রশ্ন

শিক্ষামন্ত্রীকে তথ্য দিয়েছেন ঢাবির আইইআর অধ্যাপক

শিক্ষার্থী বাছাইয়ে ফুটপাত থেকে অখ্যাত লেখকদের বই কিনে তা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন করার তথ্য আইইআরের একজন অধ্যাপক দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সচিবালয়ে রবিবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

গত ২৬ অক্টোবর সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একজন শিক্ষক বলেছেন, নীলক্ষেতের ফুটপাতে অনেক বই বিক্রি হয়, গান, জারি, নাচ, ছড়া, কবিতা নানান ধরনের বই। তারা (ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন যারা করেন) নিজেরাও দেখেন না এসব বই, ওইসব জায়গা থেকে তারা কয়েকটি বই তুলে নিয়ে আসেন। এনে প্রশ্নের (ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন) মধ্যে তুলে দেন ওই বইয়ের লেখক কে? যা তারাও জানেন না। কেন দেন? তাদের তো উদ্দেশ্য পাস ফেল না। উদ্দেশ্য হল ৩৯ জনকে বাদ দেওয়া এবং একজনকে রাখা। সেই হিসেবে এটা পাস ফেলের প্রশ্ন নয়, এতে বিভ্রান্তি হচ্ছে।’

পরে ২৮ অক্টোবর ঢাবির উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্যের সত্যতা নেই দাবি করে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী কার কাছে বা কোন শিক্ষকের কাছে এমন অসত্য তথ্য শুনেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। আমরা একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা অর্জনের যোগ্যতা যাচাই করি। আমরা যে প্রশ্ন করি তা টেক্সবুক থেকে করা হয়।’

ভিসির এ বক্তব্যের বিষয়ে রবিবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘শিক্ষকরা শিক্ষা পরিবারের মাথার মনি। তারা শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, তারা যাই বলবেন আমরা সেটার মূল্য দেব, গুরুত্ব দেব এবং আমরা সেটাকে বিবেচনা করব। আমি তাদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছি যে তারা এটা বলেছেন। আরও ভাল করে বলতে পারেন, আমাকে ডেকে নিয়ে বলতে পারেন, এখানে এসে বলতে পারেন।’

‘তারা পয়েন্টটার উপর বলেছেন সেটা আমার উদাহরণের খণ্ডিত একটা অংশ মাত্র। পুরো বক্তব্য তো নয়ই, এমনকি পুরো উদাহরণটাও নয়। খণ্ডিত বক্তব্য।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম আমাদের এখানে কথা চালু হয়ে যাচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সবাই ফেল করে বা বেশির ভাগ ফেল করে। এটা আমি বলেছিলাম যে এটা পাস ফেলের প্রশ্ন নয়, পাস ফেলের প্রশ্ন এসএসসি-এইচএসসি। এখানে তার ভাষা, ব্যাখ্যা করা, বিশ্লেষণ করা, সৃজনশীলভাবে সে জিনিসটা লিখতে পারছে কিনা, তার গণিত, তার বিজ্ঞান, তার ইতিহাস- সবকিছু নিয়েই মূল্যায়ন করে পরীক্ষা হচ্ছে। ৬০ ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।’

‘ওই পরীক্ষাটা (ভর্তি পরীক্ষা) হচ্ছে এক ঘণ্টার পরীক্ষা। ওইখানে টিক মার্ক বা ভরাট করে দিয়ে উত্তর দিতে হয়, এইভাবে বাছাই করা হয়। পাস ফেলের পরীক্ষা নয়, এটা একটা বাছাই পরীক্ষা’ বলেন নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফর এক্সম্পল সেইদিন আমি বলেছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা আসনের জন্য গড়ে ৪০ জন শিক্ষার্থীর আবেদন পড়ে। সেখানে চেষ্টাটা কি হবে? একজনকে নেওয়া ৩৯ জনকে বাদ দেওয়া। এটা এক্সক্লুসনের পরীক্ষা, সেই হিসেবে বাছাই করার পরীক্ষা। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই জটিল কঠিন বিষয়, এটাকে যদি পরীক্ষাই ধরেন।’

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘এক বছর প্রশ্ন উঠেছিল ইংরেজিতে মাত্র তিনজন পাস করেছে। সেই সময়ে একটা পত্রিকার সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) একজন প্রফেসর বক্তব্যে বলেছিলেন ওই ধরণের কঠিন করার জন্য যাতে বাছাই করে আলাদা করা যায়, এমন সব উদাহরণ নিয়ে আসা হয়। যে কথা বলেছিলেন নীলক্ষেতের উদাহরণ দিয়ে। আমি ওইটা উদাহরণ হিসেবে বলেছিলাম আইইআর’র প্রফেসরের উল্লেখ দিয়ে। এখন যদি আমার ওই কথাটা শুধু বলা হয়…তাও আমি বলছি তা উদাহরণেরও খণ্ডিত অংশ।’

‘তাই কেউ যাতে ভুল না বোঝেন, আমি শুধু বলেছি এটা পাস ফেলের বিষয় নয়। আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, যদি দেখা যায় পাস করারই যোগ্য নয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই তাদের ভর্তি করা উচিত নয়। বাইরে (বিদেশে) আমাদের কি অবস্থা হবে? যখন আমাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে ভর্তি হতে যাবে, তখন বলবে তোমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি করে না, বলে সব ফেল, আমি কেন করব?’ বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাহিদ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, আমাদের ছেলেমেয়েদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তাদের মেধা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এজন্য প্রশ্নটা (ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেনি) এবার প্রচার না করতে বলেছিলাম।’