মেইন ম্যেনু

শিশুকে শীতে রোগ থেকে বাঁচতে কী করবেন

22222_30741_1479179880

শীতকালে নাক দিয়ে পানি ঝরা, হাঁচি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ জাতীয় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এসময় সামান্য জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা অতি সাধারণ অথচ ছোঁয়াচে রোগ। বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের কারণে এ রোগের আবির্ভাব ঘটে।

বিশেষ করে ছোট শিশুদের নাক দিয়ে পানি জরা, হাঁচি-কাশি, নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, শরীর ব্যথা, সামান্য জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, খাওয়ায় অরুচি দেখা দেয়।

অনেক সময় ছোট শিশুদের ফুসফুসে ইনফেকশন হয়ে ব্রংকিওলাইটিস, নিউমোনিয়াও হতে পারে। মধ্য কানের প্রদাহও হতে পারে।আর বড়দের হতে পারে সাইনোসাইটিস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাইনো ভাইরাস দিয়ে শ্বাসনালির সংক্রমণে সর্দি হয়। অন্যান্য ভাইরাসের মধ্যে আছে কোরোনো ভাইরাস, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাস প্রভৃতি।

রাইনো ভাইরাসের একশরও বেশি প্রকারভেদ রয়েছে। এ জন্য এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে পরিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না।

ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। সপ্তাহখানেকের মধ্যে রোগ ভালো হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে সুস্থ লোকের দেহে ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রোগীরা যখন হাঁচি-কাশি দেয়, নাক ঝাড়ে, ভাইরাসগুলো তখন বাতাসে ক্ষুদ্র কণিকারূপে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো শ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরে ঢুকে যেতে পারে।

রোগী যখন তার হাত দিয়ে নাক ঝাড়ে, হাত বা রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দেয়, তখন হাত বা রুমালে ভাইরাস লেগে যায়। এ ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে কয়েক ঘণ্টা। ভাইরাস লেগে থাকা হাত দিয়ে রোগী যখন সুস্থ কাউকে স্পর্শ করে, তখন সুস্থ লোকটিও সংক্রমিত হয়।

চিকিৎসা : সাধারণত সপ্তাহখানেকের মধ্যে রোগটি ভালো হয়ে যায়। এছাড়া আরও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়মগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো :

* ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন।

* বিশুদ্ধ পানি পর্যাপ্ত পান করতে হবে। সর্দি নিয়মিত পরিষ্কার করে নাসারন্ধ্র খোলা রাখতে হবে।

* গরম পানির ভাপ বা নরমাল স্যালাইন, নাকের ড্রপ নাকের ছিদ্র খোলা রাখতে সাহায্য করে।

* ঘরে সিগারেটের ধোঁয়া বা রান্নার ধোঁয়া থেকে সর্দির রোগীর দূরে থাকা ভালো। ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

* নাক ঝরা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ব্যথা ও জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

* ঘনঘন হাত ধুয়ে ফেলা, নাক ঝেড়ে যেখানে-সেখানে নাকের ময়লা না ফেলা, হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল বা হাত দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা।

* শিশুর ব্রংকিওলাইটিস, নিউমোনিয়াসহ যে কোনো জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

শিশু হাসপাতাল, শ্যমলী, ঢাকা